দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁওয়ে আতঙ্কে রয়েছেন ৫ ইউনিয়নের ভোটাররা

চতুর্থ দফার ইউপি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। ভোটের হিসেব করতে আর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সমর্থক-কর্মীরা লিপ্ত হচ্ছেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে। পোস্টার ছিড়ে ফেলা, প্রচারণায় বাধা, হাতাহাতি, নির্বাচনী অফিস ও প্রতীকে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি এমন ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার রহিমানপুর, জামালপুর, রুহিয়া, মোহাম্মপুর, রায়পুর ও বড়গাঁও ইউনিয়নে। এদিকে এসব ইউনিয়নে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা তাদের লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চাচ্ছেন। সব মিলে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এসব ইউনিয়নের ভোটাররা।এদিকে শহরের হোটেল আল সাউদে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৪ জনকে আটকের পর নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও শঙ্কিত এলাকার সচেতন ভোটররা। এ অবস্থায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারির উপর গুরুত্বারোপ করেন অভিজ্ঞমহল। তা না হলে সদর উপজেলার নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলা হতে পাবে।  জানা গেছে, রহিমানপুরে আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী খেলাফত হোসেনের তিনটি নৌকা প্রতীকে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ওই ইউনিয়নের রহিমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আদুরি ফুড ইন্ডাস্ট্রির সামনে ও মাদারগঞ্জ বাজারে বাঁশ দিয়ে টাঙ্গানো নৌকা প্রতীকে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান চেয়ারম্যান প্রার্থী খেলাফত হোসেন।এদিকে মঙ্গলবার আনুমানিক ভোর ৪টায় জামালপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলামের নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বালিয়া হাটে নৌকা প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারসের সঙ্গে উভয় পক্ষের সমর্থদের মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উভয়পক্ষের লোক বালিয়া হাট থেকে সরে গেলে ভোর বেলা কয়েকজন দুর্বৃত্ত নৌকা প্রতীকে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে নৌকা মার্কার সমর্থকরা বুধবার সকালে বিক্ষোভ করে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাক আলম জানান, একটি কুচক্রী মহল এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ভোট শান্তিপূর্ণ হোক এটা আমিও চাই।মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার মুখে পড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ই হাবীব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রচারণার শুরু থেকেই নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে যাচ্ছে। প্রচারণার মাইক ভাঙচুর, মিছিলের উপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে প্রতিপক্ষ। একই অভিযোগ বিএনপি প্রার্থী আশরাফুলেরও। তিনি বলেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার, বাক্স ছিনতাই করে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেওয়ারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া, রুহিয়া থানাধীন পূর্ব কুজিশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিস কার্যালয়টিতে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অফিসের এক অংশ এবং বাঁশের তৈরি নৌকা প্রতীকটি পুড়ে যায়। অপরদিকে বুধবার গভীর রাতে রায়পুর ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলামের লোকজনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশীদের লোকজনের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলামের লোকজন রাতেই ইউনিয়নের সব প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস বন্ধের হুমকি দিয়েছে।ওই ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী তোফায়েল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ভেবেছিলাম নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজনের এই আচরণই বুঝিয়ে দেয় ভোট কেমন হবে। আওয়ামি লীগ প্রার্থীর লোকজন বর্তমানে ভোটকেন্দ্র দখলের পায়তারা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন সাধারণ ভোটারদের হাতে টাকা ধরিয়ে কসম খাওয়াচ্ছে নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য।এ সব ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।রবিউল এহ্সান রিপন/এফএ/আরআইপি