দেশজুড়ে

একটি সেতু পাল্টে দিতে পারে ৫ পাহাড়ী গ্রামের জীবনযাত্রা

পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নে একটি সেতুর অভাবে জনবিচ্ছিন্ন হরিধনমগ পাড়াসহ পাঁচ পাহাড়ী গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারের বদল হলেও এ পাঁচ গ্রামের মানুষের ভাগ্যের কোনো বদল হয়নি। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার এ সময়ে এখানকার মানুষ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের কাছে বরাবরই শুধু স্বপ্ন। এ নিয়ে তাদের নিত্যদিনের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গে ক্ষোভ জমাট বেধে আছে। সম্প্রতি স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের পাশ দিয়ে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণের পর এখন তারা একটি সেতুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা মনে করছে, একটি সেতুই পাল্টে দিতে পারে জনবিচ্ছিন্ন হরিধনমগ পাড়াসহ পাঁচ পাহাড়ী গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। তাদের মতে, বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ের উঁচু-নিচু মেঠো পথ ধরে চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে এ পাঁচ পাহাড়ী পাড়ার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের। এদিকে, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের পাশ দিয়ে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণের পর পাহাড় কাটার অভিযোগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ পাহাড়ী জনগোষ্ঠী। ‘পাহাড় কাটার অভিযোগ’কে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ। হরিধন মগপাড়ার বাসিন্দা পাউলা মারমা বলেন, দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ লাগবে আমরা যখন একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি তখন একটি বিশেষ মহল পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। মহলটি চায় না পাহাড়ী জনগোষ্টীর জীবনমানের উন্নতি হোক। রাস্তা নির্মাণ পাহাড় কাটা হলে পাহাড় কাটা কোনটা এমন প্রশ্ন করে স্থানীয় পাড়া কার্বারী ভাদু মারমা বলেন, আলুটলাতে অনেক বাঙালি পাহাড় কেটে বাড়ি করছে কিন্তু তা নিয়ে কোনো সংবাদ হয় না। অথচ আমরা জনস্বার্থে রাস্তা করেছি আর একজন সাংবাদিক এটাকে পাহাড় কাটা বলছেন। তিনি বলেন, নতুন রাস্তায় একটি ব্রিজ হলেই পাঁচ গ্রামে পাহাড়ীদের যাতায়াতের সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। হরিধন মগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিটন ত্রিপুরা বলেন, নতুন রাস্তার মাথায় আলী মিয়ার দোকানের সামনে ছড়ার উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে পাঁচ পাহাড়ী গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতসহ কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আহসান উল্যাহ বলেন, ‘হরিধন মগপাড়াসহ পাঁচ পাহাড়ী পাড়ার যাতায়াতের রাস্তা’ নিয়ে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্ঠা করছে। খুব শিগগিরই স্থানীয়দের সেতু নির্মাণের দাবি পূরণ হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামছুল হক বলেন, আলুটিলা পর্যটনের সৌন্দর্য্য বাড়াতে রাস্তাটি সরিয়ে নতুন করে করা হয়েছে। এটা পাহাড় কাটার মধ্যে পড়ে না দাবি করে তিনি বলেন, সার্বিক উন্নয়নে অনেক কিছুই ছাড় দিতে হবে। না হলে উন্নয়ন থেমে যাবে। মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এসএস/এমএস