আতিয়ার রহমান একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে হার মানাতে পারেনি। দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে না বেরিয়ে গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়ে যে যা বখশিস পান তা দিয়েই তার সংসার চালান। এভাবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ির পুকুরপাড়ের বকুলতলায় গান করে যাচ্ছেন।ছেলেসহ গ্রামের আরো তিনজন কৃষককে নিয়ে গড়ে তুলেছেন গানের দল। কুঠিবাড়িতে সবসময়ই দেশি-বিদেশি দর্শণার্থীর ভিড় লেগেই থাকে। ঘুরতে আসা দর্শণার্থীরা মূল ফটক অতিক্রম করেই জমিদার বাড়ি ও যাদুঘরে বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত করেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিল্পী আতিয়ার রহমানের সংসার চলে এসব দর্শণার্থীদের দেয়া বখশিসে।যুবক বয়সে ধান মাড়াইয়ের সময় চোখে ধানের গোছার বাড়ি লাগার পর থেকে তিনি ডাক্তারের কাছে যান। পরবর্তীতে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে তিনি অন্ধত্ববরণ করেন। কুমারখালীর ঈমান শাহ দেওয়ান তাকে সঙ্গীতের দিক্ষা দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই কুঠিবাড়ির বকুলতলায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি লালনগীতি পরিবেশন করে আসছেন। বকুলতলায় মাদুর পেতে বসে বাউল আতিয়ার রহমানের দল একমনে গান পরিবেশন করে চলেন। দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে বাউল আতিয়ার রহমানের সুরেলা কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত দর্শণার্থীদের মনে এক অন্যরকম অনুভূতির সঞ্চার করে।বকুলতলায় কথা হয় এই প্রতিনিধির সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে বলেন, ভিক্ষা করা মহা পাপ। তাই ভিক্ষা করি না। সঙ্গীত মনে এক অন্য রকম প্রশান্তি জাগায়। গানে গানে রবীন্দ্রনাথ আর লালন সাঁইকে খুঁজি। বাকি জীবনটাও এভাবে গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়ে কাটিয়ে দিতে চান বলে জানান তিনি।আক্ষেপ করে এই শিল্পী বলেন, বকলুতলায় প্রতিদিনই গান গাইয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়ে এলেও পঁচিশে বৈশাখের অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ হয় না। তবে এবার তার সেই আক্ষেপ দূর হয়েছে জেলা প্রশাসনের বদ্যনতায়। এই প্রথম পঁচিশে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে তিনি গান পরিবেশনের সুযোগ পেয়েছিলেন।প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ অক্টোবর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কুঠিবাড়ি পরিদর্শনে গেলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন আতিয়ার রহমানের বিষয়টি অবহিত করেন। আতিয়ারের কণ্ঠে গান শুনে অভিভূত হয়ে পড়েন মন্ত্রী। পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে মন্ত্রী মহোদয় মন্ত্রণালয় হতে অস্বচ্ছল সংস্কৃতিসেবী হিসেবে আতিয়ারের জন্য মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করেন।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল হতে এক লাখ টাকার একটি চেক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন মহোদয় সে সময় আতিয়ারের নিকট হস্তান্তর করেন।আল-মামুন সাগর/বিএ