৬৭ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ০৬ জুলাই ২০১৯

‘শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির ধারা আজো আমাদের সাথি, অবিরাম এই চলার ছন্দে আমরা অলোর জ্ঞাতি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নানা অয়োজনে পালিত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

জ্ঞান, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি সবক্ষেত্রেই বিগত দিনগুলোর অর্জনকে সামনে নিয়ে আগামীতে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

আজ (৬ জুলাই) ৬৭ বছরে পা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এই পথচলায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে ৬২’র শিক্ষা আন্দলন, ৬৬‘র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র সাধারণ নির্বাচন, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাবির শিক্ষক-ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় স্বাধিকারের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন রাবির শিক্ষার্থীরা। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণআন্দোলন চলাকালে তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাত থেকে ছাত্রদের বাচাঁতে গিয়ে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয় সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক তৎকালীন প্রক্টর ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে শনিবার সকাল থেকেই স্ব-স্ব ব্যানারে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন আবাসিক হল ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল আয়োজন। সিনেটের সামনে বৃক্ষরোপন শেষে বেলুন-ফেস্টুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান।

পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী খুব চ্যালেঞ্জিং। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি হবে। যারা দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে বিরাজমান শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা ও গবেষণায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে চলছে।

তিনি আরও বলেন, আশা করি এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের মধ্যকার দীনতা, হীনতা দূর করে কর্মে প্রেরণা যোগাবে এবং সুদৃঢ় করবে। জ্ঞানার্জন ও মানবকল্যাণে সম্মিলিত অবদান রাখবে রাজশাহী বিশ্বববিদ্যালয়।

বক্তব্য শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে অংশ নেন রাবি পরিবারের সদস্যরা। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ধারক এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হোক অনন্য মর্যাদায় এই প্রত্যাশা সবার।

শালমান সাকিল/এমএমজেড/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :