শতবর্ষ উদযাপনে মুজিববর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চিরঅম্লান আশীর্বাদ

শতবর্ষ উদযাপনে মুজিববর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চিরঅম্লান আশীর্বাদ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

বুধবার (১ জুলাই) শততম বর্ষে পদার্পণ করেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের এই দিনে যাত্রা শুরু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ মন্তব্য করেন ঢাবি উপাচার্য।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, পহেলা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ২০২০-এ নিরানব্বই বছর শেষ করে শতবর্ষে পা দিল আমাদের এই চিরতরুণ প্রতিষ্ঠান। কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লোকসমাবেশ এড়িয়ে প্রাণপ্রিয় ছাত্রছাত্রীবিহীন স্বল্পপরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজনে নিঃসন্দেহে আনন্দ প্রশান্তি ও স্বস্তির ঘাটতি অনস্বীকার্য। তবে মুজিববর্ষের এই অলোকসামান্য কালপর্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। প্রকৃতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নামক আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির দুই অন্তহীন প্রেরণা-উৎস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে পালিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২০ লাভ করেছে এক অনন্য মাত্রা। প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপনের বিরল সৌভাগ্য-প্রাপ্তির পূর্বক্ষণে মুজিববর্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চিরঅম্লান আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তাই বিশ্ববিধ্বংসী কোভিড-১৯ ভাইরাসের তীব্রতর সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এই কালে আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার করুণার পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন থেকেই সাহস অর্জন করি; অসাম্প্রদায়িক, মানবিক সেবায় এগিয়ে আসি।

শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তার, মুক্তচিন্তার উন্মেষ ও বিকাশ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী এবং তিনটি আবাসিক হল নিয়ে ১৯২১ সালের পহেলা জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‌২০২১ সালে আমাদের অস্তিত্বপ্রতিম এই প্রতিষ্ঠান শতবর্ষপূর্তি উদযাপন করবে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও একই বছর উদযাপিত হবে। তাই বছরটি হবে আমাদের জন্য এক বিশেষ মর্যাদা, সম্মান, আবেগ, অনুভূতির সংশ্লেষে গৌরবদীপ্ত ও স্মৃতি-ভাবুকতার বছর। ইতোমধ্যেই সেই উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, কালিক নৈকট্যে এ বছরের প্রতিষ্ঠা দিবসেও আমাদের প্রাণে তার ছোঁয়া এসে লেগেছে। তবে, প্রকৃতি ও জীবন বাস্তবতার অভিঘাত অগ্রাহ্য করার শক্তি কারও নেই। নভেল করোনাভাইরাসের অতিসংক্রমণের কারণে সমগ্র বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও গভীর সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে। আশার কথা এই যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যবৃন্দ বিশেষ করে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীবৃন্দ শুধু তুলনামূলক নিরাপদে নেই, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে অনেকে। আর সেজন্য পরম করুণাময়ের প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা। একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন কোনোক্রমেই বাধাগ্রস্ত না হয়, তার জন্য ইতোমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, সুদিন সামনে, বিপদবিঘ্ন পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অতীতের ন্যায় আবারও মুখরিত হবে শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে, স্পন্দিত হবে মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধ চর্চার অদম্য প্রতিযোগিতায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস প্রকৃতপক্ষে গণমানুষের প্রতি, প্রাণের চেয়েও প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। আমাদের চিরকৃতজ্ঞ চিত্তই এগিয়ে চলার পাথেয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ, পবিত্র এই দিনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি আমাদের পূর্বসূরীদের অমর স্মৃতির প্রতি, যাদের দৃঢ় প্রয়াসে ও অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে প্রিয় খ্যাতিমান এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই তাদের প্রতি যাদের অনবদ্য অবদানে বিশ্ববিদ্যালয়টি চলতে চলতে আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের প্রতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের।

‘বাংলাদেশের বিস্ময়কর অভিযাত্রার নিরবচ্ছিন্ন সঙ্গী হয়ে এই জ্ঞানপীঠ যেন আরও বেশি করে পৃথিবীর সাম্প্রতিকতম জ্ঞানকে আয়ত্ত করার সাধনায় নিয়োজিত থাকতে পারে আর মৌলিক গবেষণার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মান ও পরিবেশ উন্নয়নের শতবর্ষ উদযাপনের যে প্রত্যয় তার বাস্তবায়ন ঘটুক। আসুন, সেই প্রত্যাশায় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২০-কে সফল করে তুলি। সবাই সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিরজীবী হোক। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’

আল-সাদী ভূঁইয়া/এসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]