মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে ডাকাতি

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৮:৩৪ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
ফাইল ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের অদূরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভুয়া পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাত দল একটি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে মোবাইল, সোনার গহনা ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ভৈরব থানার দুই পুলিশ অফিসারকে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। তারা হলেন উপ-পরিদর্শক মো. ফরিদুজ্জামান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার।

এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একদল ডাকাত একটি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে যাত্রী ও চালকদের জিম্মি করে মোবাইল, সোনার গহনা ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। নরসিংদীর রায়পুরার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ডাকাতির শিকার ব্যক্তিরা ভৈরব থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে চাইলে পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তাদের অধীনস্থ এলাকার নয়। অভিযোগ গ্রহণ না করে তাদের রায়পুরা থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ না দিয়েই রাতে গন্তব্যে চলে যান।

ভৈরব থানার সামনে ভুক্তভোগীদের একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন এসএম দুর্জয় নামে এক ব্যক্তি। মাত্র তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ডাকাতির শিকার ব্যক্তিরা তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার করে সিলেটে মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তারা। গাড়ি দুটিতে ছিলেন বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ ও শিশু। রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকায় রাত দেড়টায় গাড়ি দুটি পৌঁছালে চেকপোস্টে থাকা কিছু ব্যক্তি তাদের থামান। গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গেই মুখোশধারী একদল ডাকাতের কবলে পরেন তারা। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে মোবাইল, সোনার গহনা, নগদ অর্থ লুট করে নেয়।

ডাকাতির শিকার হওয়া দুই ভুক্তভোগীর মোবাইল বন্ধ থাকায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হক জানান, ওই রাতে মহাসড়কে পুলিশের টহল ছিল। তবে ভুয়া পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে ডাকাতির কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এলে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী তাদের বলা হয় ঘটনাস্থল রায়পুরা এলাকায়, তাই অভিযোগটি রায়পুরা থানায় দিতে। এরপর তারা চলে যায়। এটাই আমার অপরাধ ধরে আমাকে বরখাস্ত করে প্রত্যাহার করা হয়।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি বলেন, ঘটনার দিন আমি থানায় ছিলাম না। তবে দুই পুলিশ অফিসারকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহারের কথা তিনি স্বীকার করেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ বিভাগীয় সিদ্ধান্ত। কোনো পুলিশ দায়িত্বে অবহেলা করলে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা ছিল বলে দুই পুলিশকে বরখাস্ত করে কিশোরগঞ্জ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রাজীবুল হাসান/জেডএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।