ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে হামলা, ১০ রাউন্ড গুলি লুট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলায় বুড়ি তিস্তা নদী পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই, আনসার ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সরকারি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা নদী সংলগ্ন আনসার ক্যাম্প ও খনন প্রকল্প এলাকায় এই সহিংসতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদী খনন কাজের প্রস্তুতি নিলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে সরকারি ছুটির দিনে খনন কাজের প্রস্তুতি নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পাউবো সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে তা দ্রুত সহিংস হামলায় রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নয়; বরং পরিকল্পিত, সংগঠিত ও উসকানিমূলক হামলা। সন্ধ্যার দিকে আলীম নামের এক ব্যক্তি মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারের বেশি লোক সংঘবদ্ধ হয়ে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়।

ওই ক্যাম্পে কর্মরত আনসার সদস্য এনামুল হক জানান, হামলাকারীরা আনসার সদস্যদের থাকার কক্ষ, অফিস, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ক্যাম্পে সংরক্ষিত রেশন সামগ্রী, আনসার সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই করা হয়। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে হামলা, ১০ রাউন্ড গুলি লুট

পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পে ব্যবহৃত ৭টি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে অচল করে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ আনসার সদস্য, ঠিকাদারের প্রতিনিধি, পথচারীসহ ও স্থানীয় বাসিন্দা মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, এই হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ। সরকারি জমি উদ্ধারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আনসার সদস্যদের ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই করা হয়েছে। এটি বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাইকৃত গুলি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আমিরুল হক/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।