সড়ক বিভাজকে বাহারি ফুলগাছে বদলে গেছে কুষ্টিয়া শহর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুর গেট থেকে ঝিনাইদহ ও ঈশ্বরদীমুখী সড়কের ৮ কিলোমিটার আইল্যান্ড জুড়ে শোভা পাচ্ছে রং-বেরঙের ফুলসহ সৌন্দর্য্যবর্ধক গাছ। এসব গাছ ও গাছে ফুটে থাকা বাহারি ফুল বদলে দিয়েছে জেলা শহরের চিত্র। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে সড়কের আইল্যান্ড। এ দৃশ্য নগরীর বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের মনেও প্রশান্তি জোগাচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্লিন কুষ্টিয়া- গ্রিন কুষ্টিয়ার (জিকে-কেকে) এই উদ্যোগের প্রশংসা এখন সবার মুখে মুখে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রবেশদ্বার বটতৈল মোড় ও ত্রিমোহনী থেকে মজমপুর গেট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে সৌন্দর্য্যবর্ধক এই গাছ রোপণ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ইতোমধ্যেই রং ছড়াচ্ছে। শহরে নতুন আসা মানুষজন গাড়ির জানালা খুলে উপভোগ করছেন সৌন্দর্য। আইল্যান্ডে গাছের ফাঁকে ফাঁকে বেড়েছে ঘাস। গৃহপালিত পশুর মালিকরা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন সেসব ঘাস।

সড়ক বিভাজকে বাহারি ফুলগাছে বদলে গেছে কুষ্টিয়া শহর

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌন্দর্য্যবর্ধক এসব বৃক্ষ জিকে-কেকের নিজস্ব অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে রোপিত হলেও রক্ষার দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করছে কুষ্টিয়া পৌরসভা। প্রয়োজনে পৌরসভার গাড়িতে এসব গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া হয়। আর প্রতি সকালে নিয়ম করে গাছের পরিচর্যায় নামেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

সপ্তাহের ছুটির দিনে সংগঠনের সদস্যরা গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি সড়কের পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিকের বর্জ্য পরিষ্কার করেন। তাদের কর্মকাণ্ডের ছাপ ইতোমধ্যেই প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এতে দোকানদাররাও তাদের পলিথিন ফেলায় সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

এই সড়কে নিয়মিত চলাচল করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম। পরিবেশ সচেতন এই শিক্ষক বলেন, ক্যাম্পাসে যখন যাই, তখন দেখি বিভিন্ন মোড়ে উনারা কাজ করেন। পরিত্যক্ত পলিথিন পরিষ্কার করেন, বৃক্ষের পরিচর্যা করেন। পরিবেশ নিয়ে যে যেভাবেই কাজ করুক না কেন, সেটা অবশ্যই সাধুবাদ জানানোর বিষয়। কারণ আমরা তো পরিবেশের ব্যাপারে খুব বেশি কনসার্ন না। এতদিনও তো রোড ডিভাইডার ছিল, কিন্তু এভাবে তো রাস্তাটায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়নি। এটা খুব ভালো উদ্যোগ হয়েছে। তবে আরও সাইন্টিফিকালি করলে সেটা সাস্টেইনেবল হবে। মানুষ সেটার স্থায়ী সুবিধা ভোগ করবে।

গাছ রোপনে শতভাগ প্রকৌশল বিদ্যার সহায়তা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন জিকে-কেকের সংগঠনটির উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তিনি বলেন, গাছগুলো আমরা নিজেদের ইচ্ছেই কিংবা যেনতেন করে লাগাইনি। আমাদের কনসালটেন্ট আছে, গার্ডেন ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলাদেশ। তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক গাছ লাগানো হয়েছে। কোনো গাছ কত বছরে কত হাইট হবে, তা আমরা জানি। সে মোতাবেকই গাছগুলো পরিচর্যা করা হবে। সড়কে কোনো ঝুঁকি এই গাছের মাধ্যমে হবে না।

সড়ক বিভাজকে বাহারি ফুলগাছে বদলে গেছে কুষ্টিয়া শহর

জাকির সরকার জানান, এই কাজের স্বপ্নটা তার অনেক আগের। তবে মূলত কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। গেল বছরের মার্চ মাসে সড়কের ৮ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। সংগঠনটিতে কাজ করছেন প্রায় ৯ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী।

গাছ রোপণের প্রক্রিয়া জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এখানে ধারাবাহিকভাবে আটটি বেডের মাধ্যমে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। পরপর সাতটি বেডে সৌন্দর্য্যবর্ধক ফুলের গাছ এবং একটি বেডে ফলজও গাছ রোপণ করা হয়েছে। যেন পাখিরা এই আইল্যান্ড থেকেই তাদের খাবার সংগ্রহ করতে পারে।

গাছের পরিচর্যায় কুষ্টিয়া পৌরসভা কী ভূমিকা রাখছে, জানতে চাইলে পৌরসভার প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, গাছগুলো যে বা যারাই লাগাক এটা এখন সবার। তাই এগুলো রক্ষায় আমরাও তৎপর। পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গাছগুলোতে পানি দেওয়া হয়। সার্বিক নজরদারি রাখা হয়।

আল-মামুন সাগর/এমএন/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।