বাবা ভোট না দেওয়ায় ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পরাজিত বিএনপি প্রার্থীর
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারি চুরির অভিযোগে মো. ইমন নামে ১০ বছরের এক শিশুকে ঘরে আটকিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই আসনের পরাজিত বিএনপি প্রার্থীর দাবি, ওই শিশুর বাবা ঘোড়া প্রতীকে ভোট না দেওয়ায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার স্বদেশি ইউনিয়নের বাউসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. ইমন একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আতাহার আলী (৩২)। তিনি শিশু ইমনের প্রতিবেশী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে শিশু ইমনের বিরুদ্ধে সুপারি চুরির অভিযোগ তোলেন আতাহার আলী। পরে স্থানীয়ভাবে বিচার ডেকে জরিমানা করা হয় ওই শিশুকে। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় ইমনকে আতাহার ঘরে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটি মারা যাওয়ার ঘটনা জানতে পেরে আতাহার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
তবে ঘটনাটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ- ১ (হালুয়াঘাট- ধোবাউড়া) আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ভিডিও বক্তব্যে বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের কর্মী-সমর্থকরা নিহত ইমনের বাবা দুলাল মিয়ার কাছে ঘোড়া প্রতীকে ভোট চান। এসময় দুলাল মিয়া সরাসরি জানিয়ে দেন- তিনি ধানের শীষে ভোট দেবেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা। চলে যাওয়ার সময় দুলাল মিয়াকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।’
এসময় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পাশে বসে থাকা অবস্থায় নিহত ইমনের বাবা দুলাল মিয়াকে বলতে শোনা যায়- ‘আজকে দেখে নিছে।’
দুলাল মিয়ার অভিযোগ, ‘তার ছেলেকে সুপারি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।
প্রিন্স বলেন, নির্বাচনে কালো টাকা ছড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। তিনি ভোট কারচুপি করে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষের অনেক ব্যালটকে ঘোড়া প্রতীকের ব্যালটের সঙ্গে এক করে গণনা করা হয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেব। ব্যালট আবার সুষ্ঠুভাবে গণনা করলে এর প্রমাণ মিলবে, আমি বিজয়ী হবো।
এদিকে ইমন হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সও ছিলেন।
তবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, ইমন হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচনে পরাজয় মানতে পারছেন না। তাই একেক সময় একেক মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে মাঠ গরম করতে চাচ্ছেন।
স্থানীয় বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের আহত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার পক্ষের কোনো কর্মী-সমর্থক বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও কোনো নেতাকর্মীকে আহত করেনি। ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নিজেই তার কর্মীসমর্থকদের দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়ে আমার ওপর দ্বায় চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ইমনের সমবয়সী এক বন্ধু কিছু সুপারি চুরি করেছিল। সুপারিগুলো বাজারে বিক্রি করতে ইমনকে সঙ্গে নিয়ে যায় তার বন্ধু। এতে আতাহার আলী মনে করেন ইমন চুরি করেছে। সন্ধ্যায় ইমনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন আতাহার। পরে লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন ইস্যুতে এই ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় জড়িতকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া পৃথক ঘটনায় আরও কেউ আহত হয়ে থাকলে সে বিষয়েও পুলিশ কাজ করবে। তবে এই মুহূর্তে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এফএ/জেআইএম