বিয়ের আনন্দ শোক হয়ে নেমে এলো সড়কে
মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তার ছেলে সাব্বিরকে বিয়ে করাতে বুধবার (১১ মার্চ) রাতে খুলনার কয়রায় যান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিয়ে শেষে মোংলার উদ্দেশে রওয়ানা হয় রাজ্জাকের পরিবার।
স্ত্রী, চার ছেলে, ছেলেদের বউ, মেয়ে, মেয়ে জামাই, নাতি-নাতনিসহ পরিবারের ১৫ জন সদস্য মাইক্রোবাসেই ছিলেন। আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে ফিরছিলেন তারা। তবে কে জানতো তাদের এ আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেবে!
বিকেল ৩টার দিকে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার গুনাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তাদের মাইক্রোবাসটি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ১০ জন সদস্য। এদের মধ্যে দুই যমজ শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকও নিহত হন। চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপালে এলাকায়।
আরও পড়ুন>>
বিয়ে করে ফেরার পথে ঘটে দুর্ঘটনা, কনেসহ একই পরিবারে নিহত ১১
বিয়ের দিনই মেয়ে নিহত, হাসপাতালে এসে জ্ঞান হারালেন বাবা

এ ঘটনায় বেঁচে রয়েছেন রাজ্জাকের স্ত্রী ও এক ছেলে। বর্তমানে তারা মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নিহত কনে মিতুর বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলায়। বর সাব্বিরের (রাজ্জাকের ছেলে) পরিবার বিয়ে শেষে মাইক্রোবাসে করে বাগেরহাটের রামপালের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে বরসহ একই পরিবারের ১০ জন, কনেসহ তার পরিবারের তিনজন এবং মাইক্রোবাসের চালক নিহত হন।

বাগেরহাটের রামপাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুব্রত মন্ডল জানান, ঘটনাস্থল থেকে চারটি মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় ১০ জনের মরদেহ। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে আসেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, মোংলা-খুলনা মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে নৌবাহিনীর গাড়ি চলাচল করে। বিষয়টি নৌবাহিনীকে কয়েকবার বলা হলেও তাতে তারা কর্ণপাত করেননি। ফলে আজ এমন দুর্ঘটনা ঘটলো।
আবু হোসাইন সুমন/এসআর/জেআইএম