জ্বালানি সংকটে কুমিরা-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০১:০০ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জ্বালানি সংকটে ৯দিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে কুমিরা-সন্দ্বীপ নৌরুটের অন্যতম দ্রুতগামী যান স্পিডবোট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সন্দ্বীপ যাতায়াতগামী অসংখ্য যাত্রী। এদিকে অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে আসন্ন ঈদ যাত্রায় চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে বলে মনে করছেন এ রুটের যাত্রীরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা-সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া নৌরুটে প্রতিদিনই হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এ রুটে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়ায় একটি ফেরি চলাচল করে। এছাড়া কুমিরা-গুপ্তছড়ায় রয়েছে তিনটি কোম্পানির ৩৩টি স্পিডবোট এবং কিছু ইঞ্জিন নৌকা। কিন্তু ফেরির সংখ্যা কম। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ে ১৮ কিলোমিটার নৌপথ পেরিয়ে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে যেতে অধিকাংশ যাত্রীই স্পিডবোট বেছে নেন। এবার ঈদের ঠিক আগেই তীব্র অকটেন সংকটে গত ৯দিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে স্পিডবোট সার্ভিসটি। ফলে যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাতে শুরু করেছেন। যা আগামী দিনে আরও ভয়াবহ দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সন্দ্বীপবাসী।

সরেজমিনে শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে কুমিরা-সন্দ্বীপ ঘাটে ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি সংকটে বন্ধ রয়েছে স্পিডবোট। এতে অনেক যাত্রীই স্পিডবোট না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। এ সময় স্পিডবোটগুলোকে সাগর উপকূলীয় শুকনো ভূমিতে তোলা অবস্থায় দেখা যায়।

সন্দ্বীপের হারামিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, সন্দ্বীপের মানুষের একমাত্র পথই নৌরুট। এ রুটে পরিবহন ব্যবস্থা কখনোই স্থায়ী স্বস্তি ফেরেনি। এই দুর্ভোগ লাঘবে কয়েক বছর পরপর সরকার থেকে আশার বাণী শোনানো হয়। এরপর কোনো একটি সার্ভিস চালু করে। কিন্তু ততটা আয়োজন বা ঢাকঢোল পিটিয়ে সার্ভিস চালু করা হয় তত দ্রুতই সেই সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। যা আমাদের হতাশ করে।

তিনি বলেন, এর আগে এরকমভাবেই সন্দ্বীপের জন্য সী-ট্রাক, ফেরি চলাচল চালু করে দ্বীপবাসীকে আনন্দের সাগরে ভাসানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা হয় হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে সী-ট্রাক। বর্ষাসহ নানান অসুবিধায় থেমে থেমে বন্ধ হয়ে যায় ফেরি। এসবের মাঝে খরচ বেশি গেলেও একমাত্র ভালো সার্ভিস ছিল স্পিডবোট। বর্তমানে অকটেন সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলোও। তাও এক বা দু’দিন নয়। ৯দিন ধরে স্পিডবোট বন্ধ হয়ে আছে। কিন্তু আমার মতো অসংখ্য যাত্রী স্পিট বোটের জন্য এসে হতাশ হয়ে ঘুরতে থাকেন। কোনো উপায় না থাকলে কাঠের তৈরি ইঞ্জিন নৌকায় যেতে বাধ্য হন। এতে অনেক সময় ব্যয় হয়ে যায়।

ইঞ্জিন নৌকা দিয়ে ঈদ যাত্রা কিছুতেই নির্বিঘ্ন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সন্দ্বীপের অপর এক যাত্রী কালাপানিয়ার বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিহাব উদ্দিন তিনি বলেন, ঈদের ছুটির চাপ এড়াতে আমি ঢাকা থেকে একটু আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছিলাম। বিকেলে ঘাটে এসে স্পিডবোটের টিকিট কাটতে গেলে কাউন্টার থেকে বলা হয়, অকটেন নেই সার্ভিস বন্ধ। তাও নাকি গত ৮ থেকে ৯দিন ধরে এ অবস্থা।

এদিকে যাত্রীদের অন্তহীন অভিযোগ বিষয়ে স্পিডবোটের কাউন্টারে কথা বলতে চাইলেও তারা কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে স্পিডবোট চালক বিশু দাস, বাবুল দাস ও তাদের হেলপার মো. আমিন জানান, এ সময়ে স্পিডবোট না চললে চরম দুর্ভোগ হবে। তারা প্রতিদিন ঘাটে আসেন বোট চালানোর জন্য। কিন্তু মালিক তাদের অকটেন দিতে পারছেন না। তাই বেকার হয়ে থাকছেন তারা।

তারা আরও জানান, রুটে এখন সার্বক্ষণিক সার্ভিস হিসেবে রয়েছে একমাত্র কাঠের বোটগুলো। এগুলো মূলত মালামাল পরিবহন করার জন্য। কিন্তু স্পিড বোট বা অন্য নৌযান না পেয়ে যাত্রীরা মালামালের সাথে ঝুঁকি নিয়ে তাতেই উঠে পড়ছেন। ইদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষ ঘরে ফিরবে। সারাদিনে এক-দু’বার ফেরি আর এই কাঠের বোটে কোনোভাবেই যাত্রী নির্বিঘ্নে ফিরতে পারবেন না। এতে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার শঙ্কা করছেন তারা।

এ রুটে চলাচলকারী আর.কে এন্টারপ্রাইজ নামক স্পিড বোট কোম্পানির মালিক জগলুল হোসেন নয়ন বলেন, আমরা দুটি কোম্পানির ২৫টি স্পিডবোট আছে। অকটেন সংকটের কারণে গত ৯দিন এগুলো বন্ধ আছে। অনেক যাত্রী এসে ফিরে যাচ্ছেন। যাদের জরুরী কাজ আছে তারা কাঠের ট্রলারে করে যাচ্ছেন। অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না, কাঠের ট্রলারে ডিজেলও অত্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছে। তাদের ৮০ হাজার লিটার অকটেন দরকার। তারা অকটেনের জন্য বিভিন্ন তেল কোম্পানিকে জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ রুটে সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিস নামক অপর একটি কোম্পানি ৮টি স্পিডবোট পরিচালনা করে। অকটেন সংকটে সেগুলোও বন্ধ আছে। সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য ও দুই উপজেলা প্রশাসন এই সংকট সমাধানে চেষ্টা করছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং স্পিডবোট চালু করতে তেল কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আশা করছি ঈদ যাত্রা শুরুর আগেই একটা সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এম মাঈন উদ্দিন/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।