এমপির নামে ভিজিএফ কাণ্ড: গ্রেফতার সেই ইউপি চেয়ারম্যানের জামিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬

লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্যের নামে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ ভাগ দাবির অডিও ফাঁসের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গ্রেফতার মদাতি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব জামিন পেয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চালের ভাগ দিতে অস্বীকৃতি ও কালক্ষেপণ করার কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পুরোনো একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করানো হয়েছিল।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চার মাস আগে (২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর) কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা (জিআর ৪২১/২৫) দায়ের করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে গোপন বৈঠক ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত ৩৩ জনের তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লবের নাম ছিল না। তা সত্ত্বেও গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামি হিসেবে সন্দেহভাজন দেখিয়ে পুলিশ তাকে আকস্মিকভাবে গ্রেফতার করে।

চেয়ারম্যানের গ্রেফতারের নেপথ্যে একটি অডিও রেকর্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের নাম ব্যবহার করে মদাতি ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লবের কাছে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ দাবি করা হয়। এই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে শোনা যাওয়া কণ্ঠটি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজের বলে স্থানীয়রা শনাক্ত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিএনপি নেতার অন্যায্য দাবি মানতে দেরি করায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এজাহারে নাম না থাকার পরও রাতের আঁধারে চেয়ারম্যান বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার দুপুরে আসামিপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির কাজল আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।

জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী হুমায়ুন কবির কাজল বলেন, আজ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চেয়ারম্যান সবুজের জামিন হয়েছে। তাকে গত বৃহস্পতিবার এজাহারনামীয় আসামি না হওয়া সত্ত্বেও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালত আজ তাকে জামিন দিয়েছেন।

তবে জামিন পেলেও উদ্বেগ প্রকাশ করে এই আইনজীবী বলেন, একটু শঙ্কা কাজ করছে। অনেক আসামিকে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর জেলগেট থেকে অন্য মামলায় আবারো গ্রেফতার করা হয়। তার ক্ষেত্রে কী হয়, তা এখনই বলতে পারছি না।

মহসীন ইসলাম শাওন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।