কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে চোখ বেঁধে পেটানোর অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দেলোয়ার হোসেন নামে এক বিএনপি নেতাকে চোখ বেঁধে পায়ের তলায় লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট কোস্টগার্ড সদস্য সোহানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা সাংবাদিকদের বিষয়টি জানায়। পেটানোর পর একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দেলোয়ার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিযুক্ত সোহান মজুচৌধুরীর হাট কোস্টগার্ড ক্যাম্পের গোয়েন্দা সদস্য।
জানা গেছে, সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাটে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেনের বালুর ব্যবসা রয়েছে। বালু ড্রেজিংয়ের ড্রেজার মেশিন মেঘনা নদীর রহমতখালী চ্যানেলে বসানো হয়। এনিয়ে কোস্টগার্ড আপত্তি জানায়। যদিও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন নিয়ে রহমতখালী চ্যানেলে ড্রেজার মেশিন বসানো হয়। এরপরও আপত্তি নিয়ে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা সদস্য সোহান সাবেক ইউপি মেম্বার জসিম উদ্দিন ও বিএনপি নেতা দেলোয়ারকে ডেকে নেয়। নিয়ম মেনে মেশিন বসিয়েছে বললে সোহান তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে তিনি অন্য সদস্যদের দিয়ে বিএনপি নেতা দেলোয়ারকে আটক করিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যান।
দেলোয়ার অভিযোগ করে বলেন, চোখ বেঁধে কোস্টগার্ড সদস্য সোহান আমার পায়ের তালুতে পিটিয়েছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্যদের সহযোগিতায় ছাড়া পাই। আমি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।
সাবেক ইউপি মেম্বার ও বালু ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে গেছি। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে ক্ষুব্ধ আচরণ করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নামেও খারাপ মন্তব্য করেছেন। দেলোয়ারকে ক্যাম্পে নিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি অমানবিক ছিল।
অভিযুক্ত কোস্টগার্ড সদস্য সোহানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যমে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কোস্টগার্ড মিডিয়া উইংয়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
মজুচৌধুরীর হাট কোস্টগার্ড ক্যাম্পের কন্টিজেন্ট কমান্ডার মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তেমন কিছু হয়নি। স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন ছিল। দেলোয়ার এখন আমাদের বিরুদ্ধে বদনাম করার জন্য এগুলো বলছে।
কাজল কায়েস/আরএইচ/এএসএম