এমপির আশ্বাসে বাড়ি ফিরে রক্তাক্ত বাহাউদ্দিন এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১০:৩৭ এএম, ২৩ মার্চ ২০২৬

একটি ভিজিটিং কার্ড, সেটাই ছিল নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সেই কাগজের আশ্বাস এখন রক্তমাখা স্মৃতি। সাতক্ষীরা সদরের আগরদাড়ি কারিগরপাড়ার বাহাউদ্দিন (৫৫) এখন হাসপাতালের বিছানায়, একটি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে, বাঁচার লড়াইয়ে।

ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সেই উত্তাল রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় লুট হয়ে যায় বাহাউদ্দিনের মুদি দোকান ও বসতভিটা। প্রাণভয়ে পরিবার নিয়ে শহরে আশ্রয় নেন তিনি। মাসের পর মাস উদ্‌বাস্তু জীবনের পর নির্বাচনের পরে একটুখানি আশার আলো দেখেন।

সাতক্ষীরা-২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক তার স্ত্রীর হাতে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বলেন, ‘বাড়ি ফিরে যান, সমস্যা হলে জানাবেন।’ সেই আশ্বাসেই গত শুক্রবার (২০ মার্চ) পৈতৃক ভিটায় ফেরেন বাহাউদ্দিন।

শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের নামাজ পড়েন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। কিন্তু ঈদের আনন্দ টিকলো না একদিনও। রাত আটটার দিকে ২০-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বাড়িতে হামলা চালায়। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাহাউদ্দিন ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বাহাউদ্দিন বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতি করি না। জমিজমা নিয়ে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল। তারা ঈদের দিন মব করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওরা আমাকে মেরে মৃত ভেবে ফেলে রেখে গেছে। আমার ডান চোখ দিয়ে এখন আর কিছুই দেখতে পাই না। সারা শরীর ভাঙা। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে বিশ্বাসে। যে ভিজিটিং কার্ডে ভরসা করে ঘরে ফিরেছিলাম, বিপদের মুহূর্তে সেই নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাইনি।’

বিচার চাইবেন কি না, এমন প্রশ্নে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাহাউদ্দিন বলেন, ‘মামলা? এমনিতেই তো বাড়িতে থাকতে পারছি না। মামলা করলে তো ওরা আমাকে ভিটেমাটিতেই থাকতে দেবে না। তবে বিষয়টি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি। দেখি তিনি এই ঘটনার কী বিচার করেন।’

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।