চৈত্রের সকালে কুয়াশার দেখা মিললো দিনাজপুরে
প্রচণ্ড রোদ ও গরমের মধ্যে দিনাজপুরে তাপমত্রার পারদ ওঠানামা করছে ৩৪ থেকে ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে রোদ আর গরমের মধ্যে দিনাজপুরে আকাশ আকস্মিক ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরের দিকে এমন দৃশ্য দেখা গেছে দিনাজপুরে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘন ঘনকুয়াশা ঢেকে ছিল গোটা এলাকা।
রাস্তায় বড়বড় যানবাহন গুলোকে সকাল ৯টা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।

তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে উষ্ণ এবং শীতল বায়ু প্রবাহের কারণে জলীয়বাস্প তৈরি হওয়ায় এই কুয়াশা দেখা দিয়েছে।
চৈত্রমাস চলছে। ঋতু অনুযায়ী গরম শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু গত বুধবার পর্যন্ত দিনাজপুরে গরম আবহাওয়া ছিল না। তবে কয়েকদিন ধরে বেশ থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে মেঘলা আকাশের সঙ্গে হালকা শীতের আবহ ছিল। তবে বৃহস্পতিবার থেকে দিনাজপুরে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার দিনাজপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনে রোদ ছিল কাঠফাটা।

তবে শুক্রবার ভোরে আকস্মিক ঘন কুয়াশায় দেখা দেয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা দেখা গেছে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল রাস্তা-ঘাট, মাঠ, ফসলি জমি ও গাছপালা। কৃষিজমির ঘাসের ডগায় দেখা গেছে বিন্দু বিন্দু শিশির কণা। বড়বড় যানাবাহন চলাচল করেছে হেডলাইড জ্বালিয়ে।
জেলা শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, শীতকালে এমন কুয়াশা দেখি। আজকের ঘন কুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে আবার বুঝি শীত চলে এলো। ভোর থেকে কিছু দেখা যাচ্ছে না। দিনাজপুর ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন গুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাছর করেছে।

উপশহর এলাকার আইনুল হক বলেন, একদিকে গরম শুরু হয়েছে। অন্যদিকে আজ আবার ঘনকুয়াশা দেখা দিয়েছে। প্রকৃতির কী বিচিত্র রূপ!
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এই ধরনের কুয়াশাকে সাধারণত ‘স্টিম ফগ’ বা ‘ জলীয় বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলা হয়। কয়েকদিনে বৃষ্টির কারণে উষ্ণ এবং শীতল বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় জলীয়বাষ্প তৈরি হয়েছে। সে কারণে এই কুয়াশা দেখা দিয়েছে। এটি সাধারণ একটি বিষয়। এটি শীতের কুয়াশা নয়।

তিনি বলেন, দিনাজপুরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার জেলায় ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাবে।
এমদাদুল হক মিলন/এমএন/এএসএম