সুনামগঞ্জ
আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় পাহাড়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার সতর্কবার্তা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই ঘোষণায় মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম চিন্তায় পড়েছেন হাওরাঞ্চলে হাজারো বোরো ধান চাষি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোর থেকে জেলায় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় ধান কাটা ও মাড়াই কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, রোববার (২৬ এপ্রিল ) থেকে সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ব্যাপক বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারাসহ সকল নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এবং বোরো ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে, সুনামগঞ্জে গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর থেকে বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখি ঝড় হচ্ছে। সেই সঙ্গে রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোর সকাল থেকে এই জেলার মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে হাওরের কৃষকরা দ্রুত ধান কেটে আনলেও সেই ধান মাড়াই কিংবা শুকাতে পারছেন না।
করচার হাওরের কৃষক আহমদ আলী বলেন, হাওরের ধান কাটতে পারলেও সেই ধান শুকাতে পারছি না বৃষ্টির কারণে। তার মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন সতর্কবার্তায় আমরা অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক আব্দুল্লা মিয়া বলেন, ২৬ তারিখ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। হাওরের ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য। কিন্তু যেভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, ধান কাটাও এখনও আমাদের জন্য বড় কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে।

দেখার হাওরের কৃষক কাদির মিয়া বলেন, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এমন বার্তা শোনার পর থেকে সুনামগঞ্জে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাজ। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে হাওরের ধান কাটছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জে ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার সকল নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ২.৩১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবেশ করছে। পাশাপাশি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেই কৃষকদের সতর্ক করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুখ বলেন, ইতোমধ্যে হাওরের ৪৫ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি নিরসনে গতকাল রাতেই একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
লিপসন আহমেদ/কেএইচকে/জেআইএম