সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ৫ জনের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১১:২০ এএম, ০৮ মে ২০২৬

সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) পিকেএস সংস্থার পক্ষে যশোরের চাঁচড়া ডালমিল শাখার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন।

যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই যশোরের বিশেষ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিকেএস যশোরের চাঁচড়া ডালমিল শাখার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান।

মামলার আসামিরা হলেন- সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও শায়লা পারভীন, জেনারেল ম্যানেজার ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান নুরুল আবসার, ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান মনোরঞ্জন মণ্ডল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী সাজ্জাদুজ্জামান এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইয়াছিন আলম।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পিকেএস পরিবার কল্যাণ সমিতি একটি সরকার অনুমোদিত স্বাস্থ্যসেবামূলক এনজিও প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে হতদরিদ্র মা ও শিশুদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা, চক্ষু চিকিৎসা, ছানি অপারেশন, লেন্স স্থাপন এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮২ সাল থেকে খুলনা বিভাগে ২৬টি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক। ইউএসএআইডির অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ২০১৮ সালে ফান্ড বন্ধ হয়ে যায়। পরে একই ডোনার সংস্থার পরামর্শে পিকেএসের মাধ্যমে যশোরসহ আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর যশোরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় পিকেএস ভবন ভাড়া নেওয়ার পর যশোর, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার ২৬টি ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ককে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্লিনিকগুলোর ব্যবহৃত মালামাল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম স্বাস্থ্যসেবার কাজে ব্যবহারের শর্তে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিরা ওই ২৬টি ক্লিনিক থেকে অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল আত্মসাৎ করেছেন, যার আর্থিক মূল্য চার কোটি ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৯১৮ টাকা ১০ পয়সা।

এজাহারে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আসামিদের ডেকে মালামাল ও অর্থ ফেরত চাইলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

মিলন রহমান/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।