দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে মায়ের আত্মহত্যা
পিরেজপুরের মঠবাড়িয়ায় দাম্পত্য কলহের জের ধরে অবুঝ দুই মেয়েশিশু সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক মা।
নিহতরা হচ্ছে, মা নাজমুন্নাহার লাইজু(২৮), দুই বছর বয়সী মেয়েশিশু মাইশা আক্তার কনা(২) ও আট মাস বয়সী আরেক মেয়েশিশু মাহিয়া আক্তার বেবি।
রোববার বিকেলে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের হারজী নলবুনীয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
তবে কি কারণে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তার সঠিক কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দাম্পত্য কলহের জের ধরে মা তার দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজেও বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর গৃহবধূর স্বামী স্কুল শিক্ষক মনিরুজ্জামান ফরিদ খান পলাতক রয়েছেন। শিক্ষক মনিরুজ্জামান হারজী নলবুনীয় গ্রামের বাহার আলী খানের ছেলে। তিনি উপজেলার গুদিঘাটা সরোজিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের হারজী নলবুনিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক মনিরুজ্জামান ফরিদ খানের সঙ্গে উপজেলার ধাণীসাফা গ্রামের আব্দুর রব তালুকদারের মেয়ে নাজমুন্নাহার লাইজুর তিন বছর আগে বিয়ে হয়।
এ দম্পতির সংসারে দুই মেয়েশিশু মাইশা ও মাহিয়া রয়েছে। বিয়ের পর দুটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।
রোববার ফরিদ নিজের কর্মস্থল স্কুলে চলে যান। ঘরে তখন স্ত্রী লাইজু ও তার দুই সন্তান ছিল। দুপুরের পর লাইজু পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে দুই শিশুকে বিষপান করিয়ে হত্যা করে। পরে নিজেও বিষপান করেন। এ সময় ঘরের দরজা বন্ধ ছিল।
বিকেলে ফরিদ স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসক রিয়াজকে খবর দিলে তিনি এসে তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর নিহত লাইজুর স্বামী ফরিদ পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশেীরা থানায় খবর দিলে পুলিশ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে এসে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মৃত গৃহবধূ লাইজুর বাবা আব্দুর রব তালুকদার জানান, তার মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে দাম্পত্য বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তিনি উভয়ের মধ্যে সমঝোতা করে মীমাংশা করে দিয়েছেন। এ সময় তার মেয়ে তার দুই শিশু সন্তানকে লালন পালনে নানা সমস্যা হচ্ছে বলে তাকে জানিয়েছিল।
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কি কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তার সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মা ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
হাসান মামুন/এএম/পিআর