হিমুর ঘাতক কুকুর নিয়ে বেকায়দায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ


প্রকাশিত: ০৭:৪১ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৬

চট্টগ্রামে কুকুর লেলিয়ে স্কুল ছাত্র হিমাদ্রি মজুমদার হিমু হত্যায় আসামিদের ফাাঁসির রায় হলেও চিড়িয়াখানায় বন্দি সেই ঘাতক বিদেশি কুকুরের বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। এদিকে আদালত থেকে কোনো নির্দেশনা না পেয়ে আটক হিংস্র কুকুর নিয়ে গত সাড়ে ৪ বছর ধরে বিপাকে রয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে রটউইলার জাতের জার্মানি ৩টি কুকুর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রাখা হয়। এর মধ্যে দুটি কুকুর মারা গেছে। দেশীয় কুকুরের জন্য বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট খাবারের প্রয়োজন না হলেও বিদেশি এ কুকুরের জন্য প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কেজি গরুর মাংস লাগে। আবার পচা কিংবা বাসী খাবার সে খায় না। ফলে সেই কুকুরের খাবারের জোগান দিতে প্রতি মাসে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বছরে লাখ টাকার বেশি।

দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর পর রোববার হিমু হত্যার মামলার ৫ আসাকিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নুরুল ইসলাম। কিন্তু ঘাতক কুকুরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অনুপম চক্রবর্ত্তী।
 
তিনি বলেন, মামলায় রায় ঘোষণা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেননি আদালত। তাই চাঞ্চল্যকর এ মামলার মূল আলামত সে বিদেশি কুকুরের বিষয়ে এখনো আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে পারিনি।

সরকারি এ কৌশলী আরো জানান, হিমু হত্যার সময় ৫টি বিদেশি কুকুর দিয়ে তার উপর হামলা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ্য আছে। এর মধ্যে আসামিদের বাসা থেকে পুলিশ ঘটনার পর ৩টি কুকুর উদ্ধার করে। বাকি দুটি কুকুর আসামিরা স্বপরিবারে পালিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেভিনিউ কালেক্টর মো. রুহুল আমিন জানান, ‘আদালতের নির্দেশ মতে কুকুরটিকে চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে। কিন্তু এটি স্বাভাবিক কুকুরের মতো নয়। প্রতি মাসে শুধু খাবারের পেছনেই খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

চিড়িয়াখানার দায়িত্বরত চিকিৎসক মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘এ জাতের কুকুর অনেক বেশি হিংস্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের জন্ম জার্মানিতে। কুকুরটি গরুর মাংস ছাড়া আর কিছুই খেতে চায় না। চাহিদার তুলনায় মাংস কম হলে কুকুরটি সারাক্ষণ ঘেউ ঘেউ করে। তখন এটি আরো হিংস্র আচরণ করতে থাকে।’

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার একটি বাড়ির ছাদে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয় সামার ফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের `এ` লেভেলের শিক্ষার্থী হিমাদ্রী মজুমদার হিমুকে। টানা ২৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে হিমু মারা যায়।

ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রোববার ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু, তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ এবং রিয়াদের তিন বন্ধু শাহাদাৎ হোসাইন সাজু, মাহাবুব আলী খান ড্যানি এবং জাহিদুল ইসলাম শাওনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

জীবন মুছা/আরএস