৩ মাসেই শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের বেহাল দশা


প্রকাশিত: ০৫:১৪ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

সংস্কারের তিন মাসেই শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের মাঝে বেইলি ব্রিজের ডেকো ব্যবহার করায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের আংগারিয়া ব্রিজ থেকে আলুর বাজার ফেরিঘাট পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ২৬ কিলোমিটারই খানাখন্দে ভর্তি। পুকুর, খাল ও ডোবায় পড়ে যাচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক। রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের।

পঁচে যাচ্ছে কাঁচামাল এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। কিছুদূর পর পর রাস্তার পিচ সুড়কি নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রায়ই ঘটে থাকে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
 
জানা যায়, অচল রাস্তা ইট সুড়কি দিয়ে জরুরি মেরামতের নামে এক শ্রেণির অসাধু লোকের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিচ্ছেন সড়ক বিভাগ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে খুলনা শহরের মেসার্স শফিক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কের উন্নয়ন কাজ করায় মাত্র এক বছর পার না হতেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হতে থাকে গর্ত ও খানাখন্দ।

Shariatpur

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শহর থেকে পণ্যবাহী ও গণপরিবহনের চাপ কমানোর জন্য চট্টগ্রাম থেকে মংলা, সিলেট থেকে বেনাপোল এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ থেকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সঙ্গে সহজে যাতায়াত করার জন্য ২০০১ সালে শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলার ওপর দিয়ে শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক নামে এ সড়ক চালু করা হয়।

সড়কটি চালু হওয়ার এসব জেলাগুলোতে সড়ক পথে এক অঞ্চল থেকে অপর অঞ্চলের সঙ্গে যাতায়াত করতে স্থানভেদে দূরত্ব কমেছে ১৫০ থেকে ২২০ কিলোমিটার। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য সড়কের মতো এই সড়কটিরও উন্নয়ন করান ২০১৩-১৪ অর্থবছরে।

Shariatpur

সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের সোনামুখীর খলিলুর রহমান, সবুজ সরদার, নিয়াজ আহম্মেদ জানান, এই তো গত জুনে এই রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। দুই নম্বর মানের কাজ করার ফলে ৩ মাস না যেতেই রাস্তার পিচ, ইটের খোয়া উঠে গেছে। এখন রাস্তা ভেঙে দেবে গেছে তাই বেইলি ব্রিজের ডেকো ব্যবহার করছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসী জানান, এমন একটি গুরুপ্তপূর্ণ সড়কের এতো খারাপ অবস্থা বছরের পর বছর থাকতে পারে না। আমরা এলাকাবাসী সরকারের কাছে শরীয়তপুরের আঞ্চলিক মহাসড়কটি অতি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাই।

ট্রাক চালক আনিস মিয়া বলেন, আমি কলা নিয়ে যানজটে পড়ে আছি। ১৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে আমাদের এখান থেকে ছাড়া পাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না। গাড়ির কলাগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

Shariatpur
 
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, গত জুনের আগে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গা সংস্কার করেছি। এই মহাসড়ক যতই সংস্কার করা হোক না কেন ভাঙা রোধ করা সম্ভব নয়। পুনরায় যদি রাস্তাটা করা হয় তাহলে সম্ভব।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, বৃষ্টির কারণে শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনঃনির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

ছগির হোসেন/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।