নাটোরে লোকসানের মুখে চামড়া ব্যবসায়ীরা
ট্যানারি মালিকরা আগে থেকেই চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও সে মূল্যে চামড়া কিনতে পারেনি নাটোরের চামড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা। ফলে নির্ধারতি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনতে হয়েছে। সেই সঙ্গে লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে বেশি খরচ গুণতে হয়েছে তাদের। এ অবস্থায় লোকসানের মুখে পড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, গ্রাম-গঞ্জে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা মাঠ থেকে যে মূল্যে চামড়া কিনেছেন তার থেকে অনেক লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
ব্যবসায়ীরা জানায়, এবছর ঢাকার ট্যানারি মালিকরা রাজধানীর বাইরে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪০ এবং খাসির চামড়া ২০টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বেঁধে দেয়া সে মূল্যে চামড়া কিনতে পারেননি তারা। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০টাকা বেশি দিয়ে চামড়া কিনতে হয়েছে।20160916171232.jpg)
জেলার চকবৈদ্যনাথ চামড়ার বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাটোরে এবার চামড়ার বাজার জমেনি। যদিও এখান থেকে প্রতিবছর শুধু কুরবানির ঈদে দেশের মোট চামড়ার ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ চামড়া সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এবার সে পরিমাণ চামড়া বাজারে আসেনি।
চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়দার খান বলেন, প্রতিবছর ঈদের দিন থেকেই জমে উঠে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নাটোরের চকবৈদ্যনাথের চামড়া বাজার। কিন্তু এবার ঈদে এখন পর্যন্ত বাজার জমেনি। গত বছরের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ চামড়া আমদানি হয়েছে।
চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাবেক কার্য-নির্বাহী কমিটির সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, ট্যানারি মালিকরা দাম বেঁধে দিলেও সে দামে চামড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া এবছর লবণের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে খরচ বেশি হচ্ছে। আর ট্যানারি মালিকরা দাম কম দেয়ায় পাশের দেশে কাঁচা চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।20160916171226.jpg)
মৌসুমি ব্যবসায়ী ইসাহাক আলী বলেন, আগের বার কিছুটা লোকসান হয়েছিল। এবার আরো বেশি হবে। কারণ ব্যবসায়ীরা তেমন চামড়া কিনছেন না। তারা এমন দাম বলছে যা কেনার থেকে দুই থেকে তিন’শ টাকা কম।
জেলা চামড়া ব্যাবসায়ী গ্রুপের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, এখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ৯শ’ কোটি টাকার চামড়া ঢাকায় পাঠানো হয়। এবার ট্যানারি মালিকদের কাছে জেলার ব্যবসায়ীদের প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। যার কারণে অনেকেই চামড়া কিনতে পারছে না। তাছাড়া গত বছর ৭০ শতাংশ চামড়া আমদানি হলেও এবার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়া আমদানি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বাকি টাকাগুলো পাওয়া গেলে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে আগ্রহী হতো। কিন্তু এবার আর সেটা হচ্ছে না।
রেজাউল করিম রেজা/এএম/আরআইপি