সমস্যায় জর্জরিত শরীয়তপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের দালালদের উৎপাতে অতিষ্ট হাসপাতালে আসা দরিদ্র রোগীরা। পাশাপাশি বিভিন্ন সঙ্কটতো আছেই।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অধিকাংশ সময়ই ওয়ার্ড বয়, এমএলএসএস ও কম্পাউন্ডারা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্র ও চিকিৎসকদের কারণেও রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে পেশাদার সুইপার না থাকায় নোংরা পরিবেশে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে জেনারেটর থাকলেও অপরেটর না থাকায় তা কোনো কাজে আসছে না।
সদর হাসপাতাল ও গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় জরুরি রোগীদের ঢাকা বা অন্যান্য স্থানে পাঠাতে হয় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬ উপজেলা জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে রোগীদের খাবারের মান অতি নিন্ম। তাদের যে খাবার সরবরাহ করা হয় তালিকা অনুযায়ী তা কেবল নাম মাত্র। ফলে মানহীন ও স্বল্প খাবার দিয়েই রোগীদের খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্য সরবরাহে নিয়োজিত ঠিকাদার ব্যক্তিগণ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদও করেন না।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, হাসপাতালে রোগ নিরাময়ের জন্য আসি। কিন্তু হাসপাতালে আসলেই সিরিয়ালে থাকতে হয়। অসুস্থ শরীর নিয়ে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায়। বেশির ভাগ সময়ই ডাক্তার থাকেন না। যা ওষুধ দেয় বেশির ভাগই বাইরে থেকে কিনতে হয়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি কিন্তু ডাক্তার ঠিকমত আসেন না। অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষা করতে দিয়েছে। টাকার অভাবে পরীক্ষাও করতে পারছিনা।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শেখ মোস্তফা খোকন বলেন, ১০ বছর আগে এই হাসপাতালটি ছিলো ৫০ শয্যার। এখন ১০০ শয্যায় উন্নতি হলেও ৫০ শয্যার জনবল নিয়েই চলছে হাসপাতালটি। এই ৫০ শয্যার জনবলের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট চক্ষু, গাইনী, মেডিসিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট প্যাথলজি, রেডিও লজিস্ট ও প্যাথলজিস্ট পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্যেও রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স ছিলো তাও ব্যবহারে অনুপযোগী।
ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মুসা খান বলেন, বর্তমানে সরকার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করে চলেছে। আমরা রোগীদের যত্নের সঙ্গে সেবা দিয়ে আসছি। তবে আরএমও, জুনিয়র কনস্যালটেন্ট সার্জারি, গাইনি, অ্যানেস্থেশিয়া, মেডিসিন ও নবসৃষ্ট উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ৪ জন সহকারি সার্জন এর পদ শূন্য থাকায় সেবা দানে শতভাগ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, এখানে আমি ব্যাতীত আর কোনো ডাক্তার নেই। তালিকাভূক্ত ডাক্তার প্রেশনে অন্যত্র চলে গেছেন এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট, রেডিও টেকনিশিয়ান প্রেশনে জেলার আধুনিক সদর হাসপাতালে চলে গেছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না।
এসব বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. মসিউর রহমান বলেন, আমরা প্রতিমাসে আমাদের প্রতিবেদনে শূণ্যপদ ও সমস্যা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে থাকি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে। তবুও সীমিত সামর্থের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।
এফএ/এবিএস