দেশীয় মাছের সংকট : উদ্বিগ্ন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা


প্রকাশিত: ০২:৩৫ এএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে ভরা মৌসুমে দেশীয় প্রজাতি মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ মৌসুমে দেশি মাছ বাজারে মিলছে না। ফলে শতাধিক শুঁটকি ব্যবসায়ী পরিবার পরিজন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত জেলার আত্রাই নদী ও বিভিন্ন বিলে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরা পড়তো। এ উপজেলা থেকে রেল, সড়ক ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন শত শত টন মাছ বাজারজাত করা হয়।

রাজধানীসহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নিলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরসহ দেশের প্রায় ২০টি জেলায় বাজারজাত করা হয়। আর এসব মাছের মধ্য থেকে পুঁটি, খলিসান, টেংরা, গুঁচি, সাঁটি, সইল ও বোয়াল মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করতেন ব্যবসায়ীরা।

আর এ মাছের শুঁটকি তৈরি করে স্থানীয় প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী জীবিকা নির্বাহ করতো। ভাদ্র মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত শুঁটকি ব্যবসায়ীদের ঘুম হারাম হয়ে যেত। এ আট মাস অবিরাম শুঁটকি তৈরি ও বাজারজাত করে যে আয় হতো তা দিয়ে সারা বছর পরিবারের ভরণপোষণ চলতো তাদের। আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন, ভরতেুঁলিয়া ও কেডিসি সংলগ্ন এলাকা শুঁটকি তৈরির জন্য বিখ্যাত।

এ স্থানগুলোতে মৌসুমের শুরুতেই মাচান তৈরি করে নারী পুরুষ সম্মিলিতভাবে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এবারে চিত্র হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মৎস্য নিধন ও খালবিলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকায় দেখা দিয়েছে দেশীয় প্রজাতি মাছের তীব্র সংকট। তাই শুঁটকির চাতালগুলোই মাছবিহীন পড়ে রয়েছে মৌসুমের শুরু থেকেই। উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরিতে বিশেষভাবে খ্যাত।

ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী মঞ্জুর হোসেন মোল্লা বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে গত বছর সব থেকে ভাল ব্যবসা হয়েছে। এবারে বন্যা না থাকায় নদী ও খালবিলে মাছের যথেষ্ট অভাব দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা শুঁটকিতে হাত দিতে পারিনি। প্রতি বছর শুঁটকির আয় থেকে আমরা সারা বছর সংসারের খরচ চালাতাম। এবারে ব্যবসা না থাকায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।

ব্যবসায়ী মাজেদুল বলেন, ভরা মৌসুমে পরিবার পরিজন নিয়ে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত থাকতাম। এবার তার ভিন্ন চিত্র দেখা দিয়েছে। বাজারে দেশীয় মাছ সামান্য পরিমাণে উঠলেও দাম বেশি হওয়ায় শুঁটকি করার জন্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্রাইয়ের শুঁটকির চাহিদা আছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান বলেন, যে সময় এ এলাকায় মাছের উৎপাদন হওয়ার কথা সে সময় এলাকায় পানি সংকট ছিল। এ জন্য মাছের প্রজনন বাড়েনি। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ বাজারে উঠছে না। তবে নতুন করে নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়া শুরু হয়েছে। পানি খালবিলে প্রবেশ করলে এখনও মাছের বংশ বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।