ছয় শয্যাতেই আটকে আছে সেবা কেন্দ্রটি
সরকার আসে, সরকার যায়। উন্নয়ন হয় না হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার প্রসূতি মায়ের একমাত্র সেবাদান কেন্দ্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৬ দশক ধরে ৬ শয্যার আসন নিয়ে একটি পাকা টিনশেড ভবনেই এই সেবা কেন্দ্রের উন্নয়ন সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেবা প্রত্যাশী মা ও শিশুদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি শয্যা সংখ্যা।
সূত্র জানায়, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধিসহ একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে ইতোপূর্বে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠালেও সে আশার গুড়ে বালি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরুপায় হয়ে আগত সেবা গ্রহণকারীদের এখানেই কোণঠাসা হয়ে সেবা নিতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যেন দেখার কেউ নেই।
জানা গেছে, ১৯৫১ সালে প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ প্রসবের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ডি.এস রোডে প্রতিষ্ঠিত হয় এই সেবাদান কেন্দ্রটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেবার মান ভালো ও খরচ কম হওয়ায় জেলার প্রত্যন্ত পল্লীর স্বল্প আয়ের পরিবারের প্রসূতি মা ও শিশুরা সেবা নিতে আসেন এখানে।
সূত্র জানায়, ৬ শয্যার এই সেবাদান কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন মা ও শিশু প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করছেন। অস্ত্রোপচার হয় প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৫-৩০ জন প্রসূতি মায়ের। আর প্রাকৃতিকভাবে প্রসব হয় কমপক্ষে ৪০-৫০ জনের।
প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল অফিসার ডা. জসিম উদ্দিন খাঁনের সঙ্গে বুধবার দুপুরে জাগো নিউজের কথা হলে তিনি বলেন, শয্যা স্বল্পতার কারণে অনেক সময় উপায়ন্তর না পেয়ে মেঝেতে সেবা দিতে হয় প্রসূতিদের। এছাড়া অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতি মাকে নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে (পোস্ট অপারেটিভ) রাখার কথা থাকলেও সে ব্যবস্থা এখানে নেই।
তবে দুইজন চিকিৎসক, সাতজন সেবিকাসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী সার্বক্ষণিকভাবে সেবাদান করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
জেলা শহরে কর্মরত নারী সাংবাদিক নাসরিন আক্তার ডলি, তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালামসহ অনেকেই বলেন, হাওড় অধ্যুষিত এ জেলার মানুষ এমনিতেই নানা বঞ্চনার শিকার। এখানকার দরিদ্র মানুষের আশ্রয়স্থল এই সেবা কেন্দ্রটিতে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা তাদের।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক একেএম মফিজল হক বলেন, একটি আধুনিক ভবন নিমার্ণ জরুরি হয়ে পড়েছে। শয্যাসংখ্যা বাড়লে আরো বেশি প্রসূতি মা ও শিশুকে সেবা দেয়া যাবে।
এফএ/এমএস