চা বিক্রি করে লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছে পুতুল


প্রকাশিত: ০৬:০৮ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০১৭

চা বিক্রি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছে লাবনী আক্তার পুতুল (৮) নামে সাতক্ষীরার এক স্কুলছাত্রী। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে বাবা এরশাদ আলীর অস্থায়ী চায়ের দোকানে স্কুল শেষে চা বিক্রি করে পুতুল।

অভাবের সংসার তাই চায়ের দোকান ঘিরেই তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তিন মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে শহরের মধুমল্লারডাঙ্গি এলাকার আবুল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন এরশাদ আলী। অস্থায়ী চায়ের দোকানটিই তাদের সম্বল। নিজস্ব কোনো বাড়ি ঘর নেই।

পুতুল সাতক্ষীরা পলাশপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। লেখাপড়ার খরচ জোগাতে স্কুল শেষে চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে সে। রাতে বাড়িতে লেখাপড়া করে।

putul

পুতুলের চাচাতো ভগ্নিপতি তাজেল হোসেন সরদার জাগো নিউজকে এসব কথা জানান।

তিনি আরও জানান, অভাবের কারণে ২০ বছর আগে আশাশুনি উপজেলা থেকে সাতক্ষীরা শহরে আসেন পুতুলের বাবা। পুতুলের বড় বোন সপ্তম শ্রেণিতে ও ছোট বোন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। চা বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় পুতুল সেই টাকা খাতা-কলম কেনা, স্কুল ড্রেস তৈরি এসব কাজে ব্যয় করে। তাছাড়াও এ দোকান থেকে উপার্জিত অর্থেই তাদের সংসার চলে। প্রতিদিন এ চায়ের দোকান থেকে ৬-৭শ টাকা আয় হয় বলেও জানান তাজেল হোসেন।

putul

তবে পুতুল লেখাপড়া শিখে বড় হতে চায়। নিজে কষ্ট করেই লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে চায়।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি জাগো নিউজে বলেন, অনেক সময় সব বিষয় দৃষ্টিতে আসে না। পৌরসভায় যোগাযোগ করলে অবশ্যই পুতুলকে লেখাপড়ার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পুতুলকে চা বিক্রি করতে হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।