শিশুকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন


প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৭

মাদরাসায় না যাওয়ায় যশোরের মনিরামপুরের সুন্দলপুর গ্রামে আবদুর রহিম নামে ৯ বছরের এক শিশুকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রহিমকে বেঁধে রাখা হয়। পরে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে নানীর কাছ থেকে চাবি কেড়ে নিয়ে শিকল ও দড়ি খুলে দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে।

ভুক্তভোগী রহিম খুলনা ফুলতলা বেজেরডাঙ্গা গ্রামের হাফিজুরের ছেলে। মাত্র সাত মাস বয়সে মাকে হারায় আবদুর রহিম। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাকে আর বাবার কাছে দেয়নি নানা শামছুর গাজী ও নানী নূরজাহান। এরপর সুন্দরপুর গ্রামে নানার বাড়িতেই থাকে। সে সুন্দরপুর মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রফিকুল ইসলামের কাছে ফোন করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এসময় মেম্বারের সঙ্গে ছিল ভুক্তভোগী শিশু রহিম। মুঠোফোনটি শিশুটির কাছে দিয়ে ঘটনার বর্ণনা শুনতে বলেন। এসময় শিশু আবদুর রহিম জানায়, সে মাদরাসায় না যাওয়ায় তার নানী ও মামী তাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন।

রহিমের প্রতিবেশি নানী খাদিজা জানান, মাত্র ৭ মাস বয়সে মাকে হারায় আবদুর রহিম। রহিম খুলনা ফুলতলা বেজেরডাঙ্গা গ্রামের হাফিজুরের ছেলে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাকে আর বাবার কাছে দেয়নি নানা শামছুর গাজী ও নানী নূরজাহান। এরপর নানার বাড়িতেই তার ঠাঁই হয়।

রহিমের নির্যাতনের খবর পেয়ে বাবা হাফিজুর রহমান ছুটে আসেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে চাইলেও তাকে দেয়া হয়নি। নানার বাড়িতে মামী পলি খাতুনের প্ররোচনায় নানী নূরজাহান প্রায়ই রহিমকে শারীরিক নির্যাতন করতো। এমনকি ঠিক মতো খেতেও দেয়া হয় না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে রহিমের নানী নূরজাহান বলেন, ‘একে তো মাদরাসায় যায়নি-তার ওপর বাড়িতে তাকে একা রেখে যাওয়া যাবে না বিধায় রহিমকে শিকল দিয়ে বেঁধে বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়েছিলাম।

এদিকে রহিমের মামী পলি খাতুন বলেন, শাশুড়ির নির্দেশে রহিমকে বেঁধে রেখেছিলাম।

প্রতিবেশীরা জানায়, রহিমের নানী ও মামী নিষ্ঠুর প্রকৃতির। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটিয়ে থাকে তারা।

অন্যদিকে, এলাকাবাসী মনিরামপুর থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে যান এসআই তপন কুমার। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি গিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাইনি। তবে শিশুটির কাছে জিজ্ঞাসা করলে সে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে।

মিলন রহমান/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।