রংপুরে ভাতাপ্রাপ্তদের অর্ধকোটি টাকা পড়ে আছে ব্যাংকে


প্রকাশিত: ০৪:৪৮ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৭

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্তদের প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে। গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ভাতার ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা অলস পড়ে থাকলেও নেই বিতরণের উদ্যোগ। ফলে ভাতাপ্রাপ্ত অনেকেই হাটে বাজারে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন।

এক্ষেত্রে উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতর ও বিতরণকারী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

কাউনিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হারাগাছ পৌরসভা ও বালাপাড়া, কুর্শা, শহীদবাগ, সারাই, টেপামধুপুর এবং হারাগাছ ইউনিয়নে ৫ হাজার ৬৭০ জন বয়স্ক, ২ হাজার ১৩২ জন বিধবা ও ১ হাজার ৪১৫ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী রয়েছেন।

চলতি অর্থ বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বয়স্ক ভাতা হিসেবে ২৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বিধবা ভাতা হিসেবে ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে ৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা গত ডিসেম্বরে ছাড় করেছে অধিদফতর। কিন্তু উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উদাসিনতায় ও তদারকির অভাবে ব্যাংকগুলো এখনো টাকা বিতরণ করেনি।

সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা জানান, সোনালী ব্যাংকের কাউনিয়া উপজেলা সদর শাখা, মীরবাগ শাখা, হারাগাছ শাখা এবং জনতা ব্যাংকের উপজেলা সদর শাখা, হারাগাছ শাখার মাধ্যমে হারাগাছ পৌরসভাসহ ছয় ইউনিয়নের সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা ভাতা তোলেন। তিন মাস পরপর তাদের ভাতা দেওয়ার কথা। কিন্তু ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা তা মানছেন না।

গত অর্থবছরের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের ভাতা গত আগস্টে দেয়া হলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ভাতার টাকা এখনো বিতরণ করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা বলেন, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা পরিবারের বোঝা হয়ে যেন না থাকে সেজন্য সরকার তাদেরকে ভাতা দিচ্ছে। কিন্তু সমাজসেবা অধিদফতরের উদাসিনতা ও তদারকির অভাবে ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ভাতাভোগীদের সময় মত টাকা বিতরণ করেন না। ফলে অনেককেই ভিক্ষা করতে দেখা যায়।

বালাপাড়া ইউনিয়নের মধ্যনিজপাড়া গ্রামের ভাতাপ্রাপ্ত নছিমন বেওয়া। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছেন। এখন চোখে ঝাপসা দেখেন। শরীরে তেমন শক্তি নেই। লাঠির ওপর ভর করে হাটে-বাজারে ভিক্ষা করেন।

ভাতা পাওয়ার পর কেন ভিক্ষা করেন জিজ্ঞাসা করলে বৃদ্ধ নছিমন বেওয়া (৯৮) বলেন, মোরা সামান্য কিছু টাকা পাই। হেইয়া দিয়া কোনো রকম খাইয়া-পইরা আছি। সরকার হামাগো বয়স্ক ভাতা দেয়। ব্যাংকওয়ালারা টাকা আটকাইয়া আমাগো হয়রানি করে। ছয়মাস ধরি টাকা পাই না। খাইতে, ওষুধ কিনতে টাকা লাগে, তাই ভিক্ষা করছি।
 
একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন উপজেলা সদর মার্কেটে ভিক্ষা করতে আসা ভাতাপ্রাপ্ত অন্তত ৩৫ জন বয়স্ক ও বিধবা।
 
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোনালী ব্যাংকের উপজেলা সদর শাখার ব্যবস্থাপক ফজলে এলাহি বলেন, সমাজসেবা অধিদফতর থেকে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ভাতার টাকা ডিসেম্বরের প্রথমদিকে ছাড় করা হলেও ব্যাংকে চেক ইস্যু করা হয় ওই মাসের শেষ দিকে।

ডিসেম্বরের শেষ তারিখ ব্যাংক ক্লোজিং ও জানুয়ারির প্রথমদিকে নতুন ফাইল খোলার কাজ করতে হয়। এ কারণে ওই মাসে ভাতার টাকা বিতরণ করা হয়নি। তবে ভাতাপ্রাপ্তদের টাকা চলতি মাসের মাঝামাঝি তারিখে বিতরণ করা হবে।
 
সোনালী ব্যাংকের মীরবাগ শাখার ব্যবস্থাপক শাহিন শাহ আকবর বলেন, ক্লোজিং মাসে নানা ব্যস্ততার কারণে ভাতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তিন মাসের টাকা তাদের হিসাবে জমা আছে। এই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই টাকা বিতরণ করা হবে।

একই কথা জানান, জনতা ব্যাংকের সদর শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম ও হারাাগছ শাখার ব্যবস্থাপক শামিম আহমেদ।
 
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সামিউল ইসলাম বলেন, ভাতাপ্রাপ্তদের টাকা ব্যাংকগুলো কেন বিতরণ করছে না এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপঙ্কর রায় বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। ভাতাপ্রাপ্তদের টাকা দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সমাজসেবা অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জিতু কবীর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।