শরীয়তপুরে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়


প্রকাশিত: ০৪:২৯ এএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৭

শরীয়তপুরে বেশির ভাগ ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। এতে জমির উর্বরতা হ্রাস পাওয়াসহ জমি হারিয়ে ফেলছে তার স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা।
 
জেলার ৬ উপজেলার আবাদি জমি ভাড়া অথবা ক্রয় করে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। আর এসব ইটভাটার জন্য পার্শ্ববর্তী জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। জমির মালিকরা তাদের জমির মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অধিক মুনাফা লাভের আশায় ভাটা মালিকদের কাছে জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন।
 
ভাটার মালিকদের নিয়োগকৃত এজেন্ট বা দালাল এবং এক শ্রেণির ভূমি দস্যু কৃষকদের নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করছেন।

কৃষি জমি থেকে এভাবে ইট তৈরির মাটি সংগ্রহ ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য যে পুষ্টির প্রয়োজন তা সাধারণত মাটির উপরিভাগে থাকে। যা উদ্ভিদ বা ফসলের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। কিন্তু জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ার ফলে জমি থেকে এসব পদার্থ চলে যাচ্ছে ইট ভাটায়। যা ফসলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

সদর উপজেলার চর স্বর্ণঘোষ গ্রামের কৃষক শাহজাহান সরদার, মুজিবর সরদার, মতলেব সরদার, খালেক সরদারসহ জেলার অনেক কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি ইটভাটায় গড়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ইট তৈরি করতে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ঘনফুট মাটি ও বালু ব্যবহার করা হয়।

Shariatpur

তাই সচেতন মহলের দাবি, ফসলি জমিতে ইট ভাটা তৈরি বন্ধ বা অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না এনে এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জেলার কোনো জমিতে ফসল উৎপাদন তো দূরের কথা এ অঞ্চল বিরান ভূমিতে পরিণত হবে।  
 
ফসলি জমির মাটিকাটার ডেকো চালক রাসেল হোসেন জানান, আমরা ভাড়ায় মাটি কাটি। পালং চকের কৃষি জমির মাটি কেটে নিচ্ছি তা যাচ্ছে বুড়িরহাট মদিনা ব্রিক্স (বিএমবি) ইটের ভাটায়।

সদর উপজেলায় অবস্থিত বুড়িরহাট মদিনা ব্রিক্স (বিএমবি) ও নড়িয়া উপজেলায় ঢোন এলাকার মক্কা ব্রিক্স ফিল্ড (এমবিএফ) ইটের ভাটার মালিক চাঁন মিয়া হাওলাদার বলেন, পালং চকের জমিতে ফসল হয় ঠিক আছে কিন্তু জমির মালিক প্রজেক্ট করবে এজন্য মাটি আমাদের কাছে বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, নড়িয়া এলাকার যেসব জমিতে ফসল হয় না সেসব জমির মাটি ইটের ভাটার জন্য উপযোগী। আমরা ওই মাটি ১ বছর পর পর কিনে আনি। কারণ প্রতি বছর ওই জমিতে পলি পড়ে।

তবে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মাদবর ফসলি জমির মাটি কেটে ইটের ভাটায় নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ইটের ভাটায় ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে না। জমির মালিকরা প্রজেক্ট করলে মাটির সরদারের কাছে মাটি বিক্রি করলে তারা আমাদের ইটের ভাটায় দেন।  

Shariatpur

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. কবির হোসেনের সঙ্গে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমাদের ফিল্ড অফিসাররা কৃষকদের মাটি বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফসলি জমিতে ইট ভাটা তৈরির বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহা. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ উৎকোচ ও রাজনৈতিক প্রভাবে পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নিয়ে ইটভাটা গড়া হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের ক্ষতি করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর কোনো প্রতিকার করা হচ্ছে না।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।