যশোরের ৫ শ্রমিকের রক্তে লেখা আজকের ইতিহাস


প্রকাশিত: ০৪:০২ এএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

যশোরের রিকশা-ভ্যান শ্রমিকদের শহীদ দিবস আজ ৮ ফেব্রুয়ারি। এই দিনটিকে ঘিরে রয়েছে শ্রমিকদের এক শোকাবহ ইতিহাস। ৫ শ্রমিকের রক্তে লেখা সে ইতিহাস। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শ্রমিকরা বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করবেন।

যশোরে ১৯৯০ সালের এই দিনে পুলিশের গুলিতে শাহাদৎ বরণ করেন ৩ শ্রমিক। দু’দিন বাদে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন গুলিবিদ্ধ মতিউর। সবমিলিয়ে ৫ জন শ্রমিক নিহত হন পুলিশের নির্যাতনে।

যশোর রিকসা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা শামীম পারভেজ মিন্টু ও সরদার আব্দুর রহমান জানান, ১৯৯০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ডাকাতির অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায় রিকসা শ্রমিক ওয়াজেদকে। ওই রাতেই পুলিশি নির্যাতনে কোতোয়ালি থানা হাজতে মারা যান তিনি। সকাল হতে না হতেই এই দুঃসংবাদ পৌঁছে যায় শ্রমিকদের মাঝে।

সংঘবদ্ধ হয়ে তারা ঘেরাও করতে যান কোতোয়ালি থানা। পুলিশ এসময় বেপরোয়া হয়ে নির্বিচারে গুলি ছুড়তে থাকে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যশোর শহর।

রিকসা-ভ্যান শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দেন পরিবহন, হোটেল, প্রেসসহ সকল শ্রেণির শ্রমিক। সকাল থেকেই দিনব্যাপী চলতে থাকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। শহরের দড়াটানায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন রিকসা শ্রমিক হারুন। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হোটেল শ্রমিক টেনিয়া ও প্রেস শ্রমিক দেবাশীষ।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’দিন পর মারা যান গুলিবিদ্ধ মতিউর। আহত হন অনেকেই। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ বরণ করেছেন চিরপঙ্গুত্ব। সেদিনের শহীদদের স্মরণে শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা ভৈরব চত্বরে নির্মিত হয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। সেখানে লিপিবদ্ধ আছে ৫ শহীদ ওয়াজেদ, মতিউর, হারুন, টেনিয়া ও দেবাশীষের নাম।

এ দিনটি স্মরণে যশোরের রিকসা-ভ্যান শ্রমিকরা আয়োজন করেছে নানা কর্মসূচির। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শোক র্যালি ও পরে স্মরণ সভা এবং দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজ।

মিলন রহমান/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।