জহিরুলের আর মাত্র ৫ লাখ টাকা দরকার


প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

সহায় সম্পদ যা ছিল তার প্রায় সবই গেছে ক্যান্সারের চিকিৎসায়। ক্যান্সার দূর হলেও এখনও চিকিৎসা শেষ হয়নি জহিরুলের। দেড় বছর ধরে চিকিৎসার পেছনে ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হলেও এখনও দরকার ৫ লাখ টাকা। কিন্তু এই টাকা কোনোভাবেই জোগাড় করতে পারছেন না জহিরুল ও তার পরিবার। তবে কী চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে তার?

জহিরুল ইসলাম (২৪) যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের ছাত্র ও যশোরের চৌগাছা উপজেলার কেসমতখানপুর গ্রামের জহর আলীর ছেলে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে ভারতের চেন্নাই প্রদেশের ভেলর সিএমসিতে চিকিৎসার জন্য নেয়া প্রয়োজন।
 
জহিরুল ইসলামের মেজ ভাই মো. মন্টু মিয়া জানান, ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ডেল্টা মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা করে জহিরুলের শরীরে (ডান পায়ে) বোন ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তাকে ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের চেন্নাই প্রদেশের ভেলরের সিএমসিতে নেয়া হয়। সেখানে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. ভি.টি.কে টাইটাস ও সেলভা মনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জহিরুলের শরীরে বোন ক্যান্সারের বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর তাদের পরামর্শে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে দুই দফায় অপারেশন ও রেডিও থেরাপি দেয়া হয়।

Jessore
এরপর সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩ জুলাই আবার ওই হাসপাতালে জহিরুলের দুই দফা অপারেশন করা হয়। এ পর্যন্ত মোট চার দফা অপারেশনের পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জহিরুলের শরীরে ক্যান্সারের জীবাণু নেই। তবে এখনও সে পুরোপুরি সুস্থ নয়। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে আরও অন্তত দুই বছর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। আর প্রতি ছয় মাস অন্তর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে ওই হাসপাতালে। দুই বছর পর জহিরুল স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে চিকিৎসকরা আশাবাদী।

কিন্তু চিকিৎসকরা আশাবাদী হলেও আশার আলো ফুরিয়ে আসছে জহিরুল ও তার পরিবারের। মন্টু মিয়া আরও জানান, এ পর্যন্ত জহিরুলের চিকিৎসা বাবদ ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তার চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে প্রায় চাষের জমি ও সহায় সম্বল বিক্রি ও যাবতীয় সঞ্চয়ের টাকা শেষ হয়ে গেছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আবারও জহিরুলকে ভারতের ভেলর এসএমসিতে নিতে হবে। কিন্তু আজও টাকা জোগাড় হয়নি। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা থেমে যাবে কি না- সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

এ অবস্থায় জহিরুলের চিকিৎসার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

যশোর সরকারি এমএম কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. মাহাবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, জহিরুল ইসলামের পরিবার খুব দরিদ্র। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের পরিবার সম্পর্কে অবগত। ক্যান্সারে আক্রান্ত জহিরুলের চিকিৎসার ব্যয় তার পরিবার বহন করতে পারছে না। চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে জহিরুল স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

এদিকে যশোর সরকারি এমএম কলেজের অধ্যক্ষ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এক যৌথ প্রত্যয়নপত্রে জহিরুলের চিকিৎসার জন্য সহৃদয়বান ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মিলন রহমান/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।