লালমনিরহাটে ২০০ বাঙালিকে হত্যা করে পাকঘাতক


প্রকাশিত: ০৪:১২ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৫

১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল। এই দিনে লালমনিরহাটে প্রায় দুই শতাধিক  বাঙালিকে ধরে এনে রেলওয়ে ওভার ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বের রিক্সাগ্যারেজে জড়ো করে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী।

গুলিবিদ্ধ আহতদের ছুরি ও বল্লাম দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে তাদের এদেশিয় দোশর বিহারীরা। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়েও যারা বেঁচে যান সেদিনের স্মৃতি মনে হলে তারা এখনও আঁতকে ওঠেন। সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি ছোট হলেও রেলওয়ে শহর হিসেবে লালমনিরহাটের পরিচিতি ছিল দেশজুড়ে। তখন এই রেল অঙ্গনকে ঘিরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আবর্তিত হতো। ফলে পাকিস্তানি আর্মি লালমনিরহাটে ঢুকে প্রথমেই আঘাত হানে রেলওয়ে কলোনীগুলিতে। আক্রান্ত হতে থাকেন রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সেই দিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গুলিবিদ্ধ রেলওয়ে কর্মচারী জিন্নাহ মিয়া জানান, শুধু হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি পৈচাশিক উল্লাসে মেতে ওঠা পাকবাহিনী। ঠেলাগাড়িতে করে ডিআরএম ( ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার) অফিসের দক্ষিণ দিকের একটি ডোবায় মরদেহগুলি গণকবর দেওয়া হয়। মরদেহ চেয়েও পায়নি শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এমনকি  সেদিন অনেক স্ত্রী সোনা-দানা, টাকা-পয়সা দিয়েও পাকিস্থানীদের  বর্বরতার হাত থেকে স্বামীকে উদ্ধার করতে পারেনি। শহীদ পরিবারের সন্তান মোসাদ্দেক হোসেন মিনু জানান, আমার বাবাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় পাকবাহিনী সদস্যরা। পরে আমার বাবাসহ অন্যান্যদের একে একে জোরপূর্বক ধরে এনে লালমনিরহাট রেলওয়ে ওভার ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বের রিক্সাগ্যারেজে জড়ো করে ব্রাশ ফায়ার  করে হত্যা করা হয়। এসব গণহত্যার জন্য প্রকৃত দায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে এমন দাবী শহীদ পরিবারের সন্তানদের ।

এসএইচএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।