ইডেন কলেজছাত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের ইসিহাস বিভাগের ছাত্রী শরীফা বেগম পুতুল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাহামুদুল আলম শিকদারকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে র্যাব-৬ সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন।
দুপুরে বাগেরহাট সার্কিট হাউজে র্যাব-৬ এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। গ্রেফতার আসামিকে মোল্লাহাট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ১৪ মে রাতে মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের দৈবকান্তির গ্রামের বাড়িতে স্বামী মাহামুদুল আলম শিকদার স্ত্রী ইডেন কলেজছাত্রী পুতুলকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। শুধু হত্যাই নয় এ নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে আসামি নিজেই মোল্লাহাট থানায় গিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের হাতে ধরা দেয়।
এ ঘটনায় নিহত কলেজছাত্রীর বাবা একই গ্রামের আবু দাউদ শেখ বাদী হয়ে জামাতা মাহামুদুল আলম শিকদারের নামে ওই দিন রাতেই মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতে মামলা চলাকালে আসামি মাহামুদুল শিকদার ঘটনার তিন মাসের মধ্যেই হাইকোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন।
প্রথম দিকে মামলা চলাকালে আদালতে হাজির হলেও পরবর্তীতে মাহামুদুল পলাতক থাকে। এরপর এই মামলায় গত ২০১৬ সালের ১৪ মে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান ইডেন কলেজছাত্রী পুতুল হত্যার অভিযোগে আসাম মাহামুদুল আলম শিকদারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
র্যাব -৬ এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, ইডেন কলেজছাত্রী পুতুলের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে ঢাকায় তার সহপাঠীরা বিচারের দাবিতে রাস্তায় প্রতিবাদ করে। তবে আসামি মাহামুদুল বিচার চলাকালে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তীতে রায় তার প্রতিকূলে যাবে বুঝতে পেরে আদালতে হাজিরা বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়। এ অবস্থায় মামলার একমাত্র আসামি মাহামুদুল আলমের অনুপস্থিতিতে গত ২০১৬ সালের ১৪ মে পুতুলকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
তিনি আরও বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মাহামুদুলকে ধরতে র্যাব সদস্যরা তখন থেকেই কাজ শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলার বাসস্ট্যান্ড থেকে মাহামুদুল আলম শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়।
শওকত বাবু/আরএআর/এমএস