‘সুখসাগর’ নিয়ে বিপাকে মেহেরপুরের পেঁয়াজ চাষিরা
উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁয়াজ ‘সুখসাগর’। ভারতীয় এ পেঁয়াজ আশার আলো দেখিয়েছিল মেহেরপুরের কৃষকদের। কিন্তু সে পেঁয়াজ এখন কৃষকদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভরা মৌসূমে ভারত থেকে এলসি আসায় গেল কয়েক বছর ধরে লোকসানের মুখে রয়েছেন চাষিরা।
২০০০ সালের দিকে ভারত থেকে চোরাই পথে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের বীজ এনে আবাদ শুরু করেন মেহেরপুরের মুজিবনগরের কৃষকেরা। বিঘা প্রতি জমিতে ১৫০ থেকে ২০০ মণ ফলন হয়ে থাকে এ পেঁয়াজের। উচ্চ ফলনশীল জাতের এ পেঁয়াজের আবাদ করে অনেকেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।

কয়েক বছর আগে ভারত থেকে চোরাই পথে এ বীজ আমদানি করা হলেও এখন চাষিরা নিজেরাই বীজ উৎপাদন করছেন। ফলে পেঁয়াজের এ আবাদ জেলা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ভারত থেকে যে বীজ কেনা হয় কেজি প্রতি সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা দরে, কৃষকরা সে বীজ উৎপাদন করছেন মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকায়।
কিন্তু ভরা মৌসুমে ভারত থেকে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) আসায় বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। ফলে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।জেলায় এবার ২ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে যা থেকে ৫৯ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার কৃষক আনোয়ার হোসেন ও রবিউল ইসলাম জানান, গেল ৪ বছর আগে জেলায় পেঁয়াজের আবাদ হতো প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু চলতি বছরে তা নেমে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার হেক্টর জমিতে। কারণ ভারত থেকে এলসি আসায় এখন বিঘা প্রতি জমির পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। কৃষকদের খরচ হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আবার সংরক্ষণের জন্যও নেই কোনো ব্যবস্থা।

মেহেরপুর কাঁচা বাজার ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি আবু হানিফ জানান, বাংলাদেশের পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারতের পেঁয়াজে বাজার সয়লাব। ফলে তাদেরও লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এস.এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এলসির বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এ জাতের পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে সংরক্ষণের জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আসিফ ইকবাল/এফএ/পিআর