গাজীপুরে রিয়াদ হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিবিএ শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেনকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের যাবজ্জীবন কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ একেএম এনামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল গোপালপুরের মো. আব্দুস সামাদ মাস্টারের ছেলে রেজাউল করিম ওরফে সাগর (২৮), জামালপুরের মোহনপুর গ্রামের মৃত সলিম উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন (৩২) ও মৌলভীবাজার জেলার বেকামোড়া গ্রামের মো. ইয়াবর মিয়ার ছেলে শাহাবুদ্দিন (৩২)। একই সঙ্গে রায়ে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম সানজিদা আক্তার লিপি। তিনি জামালপুরের মেলান্দ থানার বল্লবপুর গ্রামের আ. সামাদ মণ্ডলের মেয়ে। আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
গাজীপুর জজ আদালতের পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, প্রবাসী খাজা মইনুদ্দিনের ছেলে রিয়াদ টঙ্গীর চেরাগআলী মাতুব্বর বাড়ি রোডে মেসে ভাড়া থেকে উত্তরা ইউনির্ভাসিটিতে বিবিএতে লেখাপড়া করতেন। তিনি উত্তরায় একটি কোচিং সেন্টারে কোচিং করতেন। সে সুবাদে তার সহপাঠী সানজিদা আক্তার লিপির সঙ্গে রিয়াদের পরিচয় হয়।
রিয়াদকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই রিয়াদের সহপাঠী সানজিদা আক্তার লিপি তার স্বামী রেজাউল করিম ওরফে সাগরের হাতে তাকে তুলে দেয়। পরে রিয়াদের বাবা প্রবাসী খাজা মইনুদ্দিনের কাছে রিয়াদের মুক্তিপণ বাবদ ৩০ লাখ টাকা দাবি করে সাগর।
এ ঘটনায় প্রবাস থেকে রিয়াদের বাবা বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে রিয়াদের মামাত ভাই অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাকির হোসেন বাদী হয়ে ওই বছরের ৩০ জুলাই টঙ্গী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে র্যাব প্রযুক্তির মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি সাগরকে গ্রেফতার করে।
সাগর র্যাবকে জানায়, তারা মুক্তিপণ না পেয়ে সাগরকে জামালপুরে নিয়ে হত্যা করে। পরে অজ্ঞাত পরিচয়ে মরদেহ আঞ্জুমানে মফিদুল দাফন করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন তদন্ত শেষে ওই চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান আকন (তমিজ)।
আমিনুল ইসলাম/এফএ/আরআইপি