আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের গুলি, আহত ৫

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৫

কুমিল্লায় আদালত থেকে একটি মামলায় জামিনপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ধরে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এসময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনসহ ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পুলিশের গুলি ও মারধরের ঘটনায় এক বৃদ্ধাসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন।

জেলার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের পরচঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, জেলার চান্দিনা থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শনিবার রাতে উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের পরচঙ্গা গ্রামের মৃত অহেদ আলীর ছেলে কৃষক মো. শহিদুল ইসলামের বাড়িতে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ শহিদুল ইসলামকে ঘরের দরজা খুলতে বলে। এসময় শহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে মামলা কিংবা অভিযোগ নেই বলে ঘরের দরজা খোলেনি।

শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, একপর্যায়ে পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে আটক করে থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এসময় বাধা দিতে গিয়ে পুলিশের আঘাতে আহত হন শহীদুলের স্ত্রী রফেজা খাতুন ও ছোট ভাই মফিজুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম বেগম। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে পরচঙ্গা গ্রামের মাফিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা ও আবুল হাশেম নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আহতদেরকে রোববার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চান্দিনা থানার ওসি গোলাম রসুল নিজামী সোমবার বিকেলে জাগো নিউজকে জানান, শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা (৫৭০/১৪) রয়েছে। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। জামিনের রি-কল থানায় না থাকায় ওই রাতে পুলিশ তাকে ধরতে যায়। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের উপর হামলা চালালে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেটের গুলি ছুড়ে এবং শহীদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন কোর্ট থেকে আদালতের জামিন নামার কপি থানায় জমা দিয়ে ছাড়া পায়।

তবে এ বিষয়ে মহিচাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পরচঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা একেএম রুহুল আমিন জানান, শহীদুল ইসলামের নামে থানায় কোন মামলার ছিল না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশ পাশ্ববর্তী গল্লাই ইউনিয়নের কেশরা গ্রামের গফুর মিয়ার পুত্র ও থানার ওয়ারেন্টভূক্ত শহীদুল ইসলামকে ধরতে বের হয়ে তার পরিবর্তে পরচঙ্গা গ্রামের মৃত অহেদ আলীর পুত্র শহিদুল ইসলামকে ধরতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।