র্যাবের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরকে আটক করেছে র্যাব-৭ সদস্যরা। গতকাল রোববার মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়।
সোমবার সকালে র্যাব-৭ কক্সবাজার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তাকে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে বলে দাবি করে র্যাব। এ সময় র্যাব তাকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সোমবার বিকেলে রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পরিবারের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরের স্ত্রী শামসুর নাহার। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্ধারিত বক্তব্য শেষ করার আগেই এলাকাবাসী জড়ো হতে শুরু করে সম্মেলন স্থলে।
মুহূর্তেই সম্মেলন স্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে। এ সময় এলাকাবাসী রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পরে তারা স্লোগান দিয়ে মিছিল সহকারে ইউনিয়নের সবুজ বাজার অভিমুখে রওনা হন। ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের কারণে উত্তাল হয়ে পড়েছে রাজাখালী।
স্থানীয়রা বলেন, চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরকে পরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আমাদের চেয়ারম্যান। একজন সৎ ও জনদরদি জনপ্রতিনিধি। তাই আমরা তাকে ফেরত চাই।
র্যাব-৭ কক্সবাজার কার্যালয়ের কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন এক তথ্য বিবরণীতে জানান, রোববার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়াকাটা এলাকা থেকে ১টি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলিসহ রাজাখালী ইউনিয়নের বদি উদ্দীন পাড়া এলাকার মৃত কাছিম আলীর ছেলে ছৈয়দ নূরকে তারা আটক করে।
পরে তার দেয়া তথ্য মতে র্যাব অভিযান চালিয়ে ১টি এসএমজি, ১টি রিভলভার, ১টি ওয়ান শুটার গান ও ৫ রাউন্ড রিভলবারের গুলি উদ্ধার করে।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের হাতে আটক ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরের স্ত্রী শামসুর নাহার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কক্সবাজার আগমন ও জনসমাবেশের প্রস্তুতি উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভা থেকে ফেরার পথে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে র্যাব সদস্যরা আমার স্বামী ও তার সঙ্গীয় দলীয় ৪ নেতাকর্মীকে আটক করে।
এ সময় তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ কিছু না পেয়ে তাদের নিয়ে অভিযানের নামে আমাদের রাজাখালী বদিউদ্দীন পাড়ার বাড়িতে আসে র্যাব সদস্যরা। বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক মারধর করে তারা।
পরে এখানেও অবৈধ কিছু না পেয়ে চেয়ারম্যানসহ আটক অপর ব্যক্তিদের নিয়ে চলে যেতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। কিন্তু র্যাব সদস্যরা স্থানীয়দের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে চলে যায়।
এ সময় র্যাব সদস্যরা ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। মধ্যরাতে আমরা জানতে পারি চেয়ারমানের সঙ্গে আটক অপর চার দলীয় নেতাকর্মীকে র্যাব সদস্যরা ইউনিয়নের বকশিয়া ঘোনা এলাকায় গিয়ে ছেড়ে দিয়ে চেয়ারম্যানকে নিয়ে চলে যায়।
সোমবার (০১ মে) সকাল ১১টায় র্যাব-৭ কক্সবাজার সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ৪টি অস্ত্র ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে দাবি করে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে ছৈয়দ নূরের স্ত্রী শামসুর নাহার বলেন, স্থানীয় কুচক্রী মহলের ইন্ধনে র্যাব-৭ এর সদস্যরা এই অস্ত্র উদ্ধার নাটক সাজিয়ে আমার স্বামীকে ফাঁসিয়েছে। নীরহ মানুষের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূর। তাই তারা চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দিতে এই ষড়যন্ত্র করেছে। চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরের পক্ষে এলাকার হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন। তাদের নিয়ে প্রিয় চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরকে মুক্তি আন্দোলন চালিয়ে যাবো বলেন তিনি।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস