তীর-ধুনক লাঠি হাতে সাঁওতালদের প্রতিবাদ
জমি ফেরত, সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, আগুন লাগিয়ে ক্ষয়ক্ষতি ও গুলি করে তিন সাঁওতাল হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সদস্যরা।
রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাটা মোড় থেকে চারাবটগাছ পর্যন্ত দুই শতাধিক সাঁওতাল রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন।
মাববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, ত্রাণ কমিটির সভাপতি বার্নাবাস টুডু, সাঁওতাল নেতা রাফায়েল হেমব্রম ও সুচিন্তা হেমব্রম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত বছরের ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে হামলার পর থেকে সাঁওতালরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। আমরা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি ফেরতের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, আগুন, লুটপাট ও গুলি করে তিন সাঁওতাল হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান বক্তারা।

এর আগে সাঁওতালরা তীর-ধুনক, লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও ব্যানার-ফ্যাস্টুন নিয়ে মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিল শেষে তারা মানববন্ধনে অংশ নেয়।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য ১ হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। শর্তভঙ্গের অভিযোগ তুলে জমি ফেরতের দাবিতে ২০১৪ সালে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। পরে তারা গত বছরের ১ জুলাই সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের ১০০ একর জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে।
পরে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশ ও সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল নিহত ও সাঁওতাল ও পুলিশসহ আহত হন অনেকে।
এরপর সাঁওতালদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দুটি ও পুলিশের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়।
এএম/পিআর