৪ দিন বিদ্যুৎ নেই কুমিল্লা মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ও সংক্রামক ওয়ার্ডে গত ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে অন্ধকার আর গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা সেবাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে বন্ধ রয়েছে শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সব মেশিনপত্রও। হারিকেন ও মোমবাতিই এখন ভরসা। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হতে আরও অন্তত ৩/৪ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ঈদের দিন দিবাগত গভীর রাত থেকে শর্ট সার্কিটের কারণে হাসপাতালের একাংশের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাসপাতাল সংলগ্ন ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল বিনষ্ট হয়ে হাসপাতালের ২য় তলার ২টি শিশু ওয়ার্ড ও ১টি সংক্রামক/ডায়েরিয়া ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এছাড়াও হাসপাতালের পরিচালকের বাংলো এবং নার্স ডরমেটরিতেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভবন ও বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জানানো হলে পর দিন থেকে কাজ শুরু হয়। কিন্তু শুক্রবার রাত পর্যন্ত গণপূর্ত ও বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো সুখবর দিতে পারেনি।
ঢাকা থেকে বৈদ্যুতিক ক্যাবল এনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরও ৩/৪ দিন সময় লাগার কথা জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।
এদিকে প্রতিদিন বৃহত্তর কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলের হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা স্বল্প আয়ের এসব মানুষ গত ৪ দিন ধরে রয়েছেন চরম দুর্ভোগে, ব্যাহত হচ্ছে তাদের চিকিৎসা সেবা। অন্ধকার আর গরমে অনেক রোগী কক্ষ থেকে বেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বারান্দার মেঝেতে।
বিদ্যুতের অভাবে শিশু বিভাগের কিছু যন্ত্রপাতিও সচল করা যাচ্ছে না। তাই দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তায় সময় পার করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কয়েকটি ওয়ার্ডে রোগীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে তবে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে হাসপাতাল, গণপূর্ত ও বিদ্যুৎ বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য আরও হয়তো ২/৩ দিন সময় লাগতে পারে।
কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা জানান, ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত লোডের কারণে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, আশা করি আগামী সোমবারের মধ্যেই হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হবে।
কামাল উদ্দিন/এফএ/এমএস