কুমিল্লায় মাদরাসাছাত্রী হত্যায় একজনের ফাঁসি


প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ০৪ জুলাই ২০১৭

কুমিল্লায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফারজানা আক্তার হ্যাপি নামের এক মাদরাসাছাত্রীকে এসিড মেরে হত্যার ঘটনায় ৭ আসামির মধ্যে একজনকে ফাঁসি এবং অপর ছয়জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩ নং আদালতের বিচারক এম আলী আহাম্মদ এ রায় প্রদান করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।

আদালত ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলার দাউদকান্দি উপজেলার জামালকান্দি গ্রামের কালু বেপারীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন সোনাকান্দা গ্রামের কাজী জালাল উদ্দিনের মেয়ে মাদরাসাছাত্রী ফারজানা আক্তার হ্যাপিকে প্রেমের প্রস্তাব দেন।

কিন্তু প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে অভিযুক্ত সাদ্দাম তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর গভীর রাতে হ্যাপির বাসার জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করে।

এতে হ্যাপি ছাড়াও তার বোনের ছেলে ফয়সাল মাহমুদ, কাজের মেয়ে খাদিজা আক্তার আহত হন। হ্যাপিকে প্রথমে ঢামেক এবং পরে ঢাকা এসিড সারভাইভাস ফাউন্ডেশনের হাসপাতালে ভর্তি করার পর ২২ দিন পর সে মারা যায়।

১২ নভেম্বর হ্যাপির বাবা দাউদাকান্দি মডেল থানায় সাদ্দামসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার ২ মাস পর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত ৩৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে সাদ্দামকে ফাঁসি এবং অপর ছয়জনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি মো. নূরল ইসলাম মামলার এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে মামলার বাদী হ্যাপির বাবা কাজী জালাল উদ্দিন জানান, প্রধান আসামির ফাঁসির আদেশ হলেও তার সহযোগীরা মামলার অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে গেছে। তাই তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন ফেরদৌস, জসিম উদ্দিন শিশু ও আলী আক্কাস।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।