কুড়িগ্রামে নদীতে পানি বেড়ে দুই শতাধিক চর প্লাবিত
কুড়িগ্রামের প্রধান প্রধান নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে। এই গতিতে পানি বাড়লে দু-একদিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
পানি বাড়ার কারণে এরই মধ্যে দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেকের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ। ডুবে গেছে পাট, আউস, সবজিসহ কিছু ফসল। এছাড়া ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে শতাধিক পরিবার।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীতে ১২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তায় ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ২ দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ার ফলে ইউনিয়নের ১০টি চরের প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পোড়ারচরের বাসিন্দা শরিফুল হক জানান, পানিবন্দি প্রায় ৩৫টি পরিবার আবাসন প্রকল্পে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। মেম্বার মানিক মিয়া জানান, ভগবতিপুরে প্রায় ৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, গত দু`দিনের অব্যাহতভাবে পানি বাড়ার কারণে চরগুঁজিমারী, অনন্তপুর, নয়ডারা, গাবুরজান, শ্যামপুর, বাবুরচরসহ বিভিন্ন চরে ৭০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা সদরের ঘোগাদহ, উলিপুরের সাহেবের আলগা, চিলমারীর অষ্টমীরচর, নয়ারহাট, রৌমারীর শৌলমারী, বন্দবেড় ও রাজীবপুরের কোদালকাটিসহ কয়েকটি ইউনিয়নের দুই শতাধিক চরের মানুষ।
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন মাস্টার জানান, এ ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ৯৭টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এর মধ্যে বালাডোবা গ্রামে ৩৫টি ও দক্ষিণ বালাডোবা গ্রামে ২২টি।
অন্যদিকে মশালের চর এলাকার সিদ্দিক আলী মেম্বার জানান, মশালের চরে ১৮টি পরিবার ও বতুয়াতুলি চরে ২২টি পরিবার নদী ভাঙনের ফলে গৃহহীন হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ত্রাণ অধিদফতরের কাছে ৫০০ মে. টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানিয়েছেন, বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
নাজমুল/এমএএস/এমএস