পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন
স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় শিউলী আক্তার শিল্পী (৩০) নামের এক গৃহবধূকে অমানুষিক নিযার্তন করেছেন পাষণ্ড স্বামী। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার নিজ গড্ডিমারী গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে শিল্পী। এসএসসি পাশের পর বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের একমাত্র ছেলে হাফিজার রহমানের (৩৫) সঙ্গে। বর্তমানে তিন ছেলের জনক-জননী তারা। এই অবস্থায় তিন বছর আগে হাফিজার তার এক ফুফাতো বোনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে বাধা দেয়ায় শিল্পীর উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।
এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাসহ এলাকাবাসী একাধিকবার শালিশও করেন। প্রতিটি বৈঠকে হাফিজুর তার স্ত্রীকে নির্যাতন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপোষ-মীমাংসার কাগজে স্বাক্ষর করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টো নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে। সেই নিযার্তনের দগদগে ছাপ নিয়ে এখন হাতীবান্ধা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ শিল্পী আক্তার।
বৃহস্পতিবার হাতীবান্ধা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, শিল্পী আক্তারের অবুঝ শিশু মায়ের সঙ্গে হাসপাতালের বিছানায় কাঁদছে। শরীরে বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের দাগ নিয়ে যন্ত্রণা কাতর শিল্পী ছেলেকে সামলাতে পারছেন না। তাই পাশে থাকা শিল্পীর মা আছিয়া বেগম ওই শিশুর কান্না থামানোর চেষ্টা করছে।
শিল্পীর বাবা শাসশুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আড়াই বিঘা জমি বিক্রি করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। মেয়েকে যেন নির্যাতন করা না হয়, তাই কিছুদিন আগেও জামাই হাফিজারকে খুশি রাখতে একটি মোটরসাইকেলও কিনে দিয়েছি। তবুও পরকীয়ার কারণে আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন করেও আবার তালাক দেয়া হয়েছে। তাই এ নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান শিল্পীর বাবা শামসুল হক।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রবিউল হাসান/এমজেড/আরআইপি