ভুল চিকিৎসায় মা ও শিশুর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:০০ পিএম, ০২ আগস্ট ২০১৭

শরীয়তপুর পৌরসভার চৌরঙ্গী মোড় সংলগ্ন শরীয়তপুর নার্সিং হোমে ভুল চিকিৎসায় মা ও শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে মা ও শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই ক্লিনিকে ভাঙচুর করেছে রোগীর স্বজনরা।

মৃত রুমা বেগম (২৮) শরীয়তপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের তুলাসার গ্রামের মিলন তালুকদারের স্ত্রী। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টায় তুলাসার গ্রামের মিলন তালুকদারের স্ত্রী রুমা বেগমের পেট ব্যথা উঠলে শরীয়তপুর নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে রুমার স্বামী চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরেও ওই নার্সিং হোমের চেয়ারম্যান চিকিৎসক এম.এ. দাউদ রোগীকে ক্লিনিকে আটকে রাখে।

পরে বেলা দেড়টার দিকে এম.এ. দাউদ রুমার সিজার করানোর জন্য নার্সিং হোমের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান এবং রুমাকে অজ্ঞান করার জন্য তার শরীরে ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেয়ার পর মা ও শিশু উভয়েই মারা যায়।

পরে রুমার স্বজনরা বেলা দেড়টার দিকে শরীয়তপুর নার্সিং হোম ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করে। বিক্ষোভ করার খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শরীয়তপুর নার্সিং হোমের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর মধ্যে নার্সিং হোমের চিকিৎসক, নার্স ও পরিচালনাকরীরা সকলেই পালিয়ে যায়।

রুমা বেগমের স্বামী মিলন তালুকদার বলেন, রুমা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ১০টার দিকে আমরা শরীয়তপুর নার্সিং হোমে ভর্তি করি। ভর্তি করলে জানতে পারি রুমার যে সিজার করবে সেই ডাক্তার চোখের ডাক্তার। পরে রুমাকে অন্য ক্লিনিকে নিতে চাইলে নার্সিং হোমের ডাক্তার এম.এ. দাউদ নিতে দেননি। চোখের ডাক্তার হয়ে রুমাকে সিজার করার জন্য সুই দিলে আমার স্ত্রী ও সন্তান মারা যায়। আমি এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক হাসপাতাল এলাকার এক ব্যক্তি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন দেয়ায় এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কোন দোকান থেকে মেডিসিন কিনেছে তদন্ত করলে বোঝা যাবে।

শরীয়তপুর নার্সিং হোমের চেয়ারম্যান ডা. এম.এ. দাউদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।

জেলা সিভিল সার্জন নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গেছি। তদন্ত করে দেখতে হবে। দোষী হলে অবশ্যই ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। এ ব্যাপারে কেউ আটক হয়নি এবং এখনও কেউ মামলা করতে আসেনি।

মো. ছগির হোসেন/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।