খাগড়াছড়িতে আ.লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে জনদুর্ভোগ
খাগড়াছড়ি জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সুরুজ মিয়ার ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ি।
রোববার খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনার সঙ্গে সঙ্গে জেলা শহরে জনদুর্ভোগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সুরুজ মিয়ার ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টার বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীরা।
কদমতলী থেকে শুরু হয়ে শাপলা চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সুরুজ মিয়াকে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির দায়ে দায়েরকৃত মামলার এজহারভুক্ত আসামি খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
এ সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কংজরী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শামছুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলাকে মিথ্যা দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টায় শাপলা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (সাময়িক বহিষ্কৃত) মো. জাহেদুল আলমের অনুসারীরা।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মামলার এজহারভুক্ত আসামি ও জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক নুরুন্নবী, পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের ও রামগড় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শাহ আলম প্রমুখ।
-20170806182144.jpg)
বক্তারা, খাগড়াছড়ির পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলমসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিএনপিকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারীরা জেলা পরিষদসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির মহোৎসব চালাচ্ছে অভিযোগ করে আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে সুযোগ না দেয়ারও আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে জেলা প্রশাসক মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসচিকে ঘিরে রোববার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা খাগড়াছড়ি শহরের ব্যস্ততম সড়কসমূহ বিক্ষোভকারীদের দখলে থাকায় জনদুর্ভোগে পড়েন জেলার অধিবাসীরা।
জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনগণ। আতঙ্কে প্রয়োজনীয় কাজ না সেরে অনেকেই ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খাগড়াছড়ি বাজারের ব্যবসায়ীরা।
পুলিশের সামনেই উভয় পক্ষের দায়েরকৃত একাধিক মামলার এজহারভুক্ত আসামিরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাহউদ্দীন, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদের, খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশের (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানসহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন এজেন্সির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/জেআইএম