দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু : যোগাযোগের নতুন দিগন্ত


প্রকাশিত: ০৫:০২ এএম, ১৮ জুন ২০১৫

পূর্বাঞ্চল রেলপথে ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য আশুগঞ্জ-ভৈরব অংশে মেঘনা নদীর ওপর চলছে দ্বিতীয় ভৈরব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে সেতুর ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই সেতু নির্মিত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতকারী ট্রেনের যাত্রীরা বর্তমান সময়ের চেয়ে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আগেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারত সরকারের ৫৬৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা অর্থায়নে গত ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইরকন ও এএফকন লিমিটেড যৌথভাবে দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে। ৯৮২ দশমিক ২ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতু নির্মিত হলে পূর্বাঞ্চলের সাথে রেলপথে সারাদেশের যোযাযোগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সূত্রে আরো জানা যায়, দেশে এই প্রথম ২ দশমিক ৫ ডায়া মিটারের পাইলিং পদ্ধতিতে চলছে দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর কাজ। বাংলাদেশ কিংবা ভারতে আগে কোনোদিন এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়নি। সেতুর মোট ৯৪টি পিলারের মধ্যে ৮৪টি পিলার তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। শিগগিরই সেতুর গার্ডারের কাজ শুরু হবে। ৩০ মাস মেয়াদি এই সেতুর কাজ আগামী ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, ডাবল লাইন না থাকায় সিগন্যাল ও ক্রসিং এর কারণে যাত্রীদের বিভিন্ন সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকতে হয়। দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু এবং ডাবল লাইন নির্মিত হলে ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি দূর হবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের গুরুত্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে চলমান ট্রেনের পাশাপাশি নতুন আরো কয়েকটি ট্রেন যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক।

গত ৯ জুন দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সেতুর কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই রেলসেতু রেলপথে যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এই রেলসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ডাবল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা-চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশের রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করা হবে।

দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর প্রকল্প পরিচালক আবদুল হাই জাগো নিউজকে জানান, আশুগঞ্জ ও ভৈরব শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে বিদ্যুৎ, টেলিফোন লাইন, ইন্টারনেট সংযোগ ও গ্যাস লাইন রয়েছে। কাজের সুবিধার্থে এগুলো সরানোর জন্য সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়েই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

আজিজুল আলম সঞ্চয়/এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।