স্কুলের জমি বিক্রি করে দিলেন সভাপতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৭

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিক্ষকদের চার লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে গিরিধারা রমজান আলী চিশতি উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। সভাপতির অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ইতোমধ্যে ওই স্কুলটির ভবন দখল করে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা।

এ বিষয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে একাধিক অভিযোগ দেয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। স্কুলের ভবন বেদখল হয়ে যাওয়ায় ১২০ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ২৯ আগস্ট ফতুল্লার ভূইগড় গিরিধারা আবাসিক এলাকায় রমজান আলী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি দান করে দলিল (নং ৪২৪০) সম্পাদন করেন ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম চৌধুরী। তিনি স্কুলের নামে জমি লিখে দেয়ায় এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই বছরের ডিসেম্বর স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যাতে সেলিম চৌধুরীকে সভাপতি ও হাজী শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোনীত করে ১১ সদস্যের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

পরিচালনা কমিটি স্কুলটি শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ১৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ দেয়া হয়। স্কুলটি এমপিওভুক্ত না করা পর্যন্ত পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ভাবেই ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্কুলটি পরিচালিত হয়। এর মধ্যে শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করে দেয়ার নামে জনপ্রতি শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে সবর্মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম চৌধুরী। এরপর তিনি স্কুলের জমি একই এলাকার ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত আনিছুর রহমান মৃধা, দাদন আকন, আব্দুল আলিম ও আতাউর রহমানের কাছে বিক্রি করে দেন।

বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ মে স্কুলটির শিক্ষকদের পক্ষে শিক্ষিকা সালেহা বেগম দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এছাড়া স্কুলটির সম্পত্তি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে তিনটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।

narayanjgnj

এরই মধ্যে গত ১৬ অক্টোবর ভূমিদস্যু চক্রটি স্কুলটির অবকাঠামো দখল করে নিয়ে টেবিল বেঞ্চসহ সকল আসবাবপত্র লুটে নেয় এবং স্কুলটির সাইনবোর্ড মুছে ফেলে সেখানে তাদের নামের সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেয়। পরদিন ১৭ অক্টোবর স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হাজী শাহাদাৎ চৌধুরী পুলিশ সুপারের কাছে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে গিরিধারা রমজান আলী চিশতি উচ্চ বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য আবেদন জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, স্কুলটির জমি যারা দখলে নিয়েছেন তারা এলাকার প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত। যে কারণে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পারছে না।

এ বিষয়ে স্কুলটির সভাপতি সেলিম চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

স্কুলের জমি দখলে নেয়া আনিছুর রহমান মৃধা জানান, স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম চৌধুরী শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে রেজ্যুলেশন এনেছেন তিনি স্কুলটি আর পরিচালনা করবেন না। এছাড়া স্কুলটিতে কোনো শিক্ষার্থীও ছিল না। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি রোগে আক্রান্ত। যে কারণে তিনি স্কুলের জমিটি আমাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। আর কোনো শিক্ষক যদি তার কাছে অর্থ পেয়ে থাকেন তাহলে তারা তার বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ করবেন।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামালউদ্দিন জানান, এ বিষয়টি তার জানা নেই। তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি।

জেলা শিক্ষা অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, কেউ যদি স্কুলের নামে সম্পত্তি দান করে তাহলে সেটা জনগণের সম্পত্তি হয়ে যায়। সেই জায়গা পুনরায় বিক্রি করার এখতিয়ার তার নেই। গিরিধারা রমজান আলী চিশতি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।