বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ফসলের মাঠে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছেড়ে দেয়া বর্জ্য ও ছাইযুক্ত বিষাক্ত পানিতে ডুবে গেছে ফুলবাড়ী উপজেলার ৫ গ্রামের ফসলের মাঠ। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পচে হয়ে গেছে বোরো বীজতলা। বিষাক্ত ছাই আর পানিতে ফসলের মাঠ ডুবে যাওয়ায় বোরো চারা রোপণ করতে পারছে না কৃষক। অপরদিকে এ বিষাক্ত পানি ব্যবহার করতে গিয়ে চর্ম ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের শিকার হচ্ছে গ্রামবাসী।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিক্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য, কয়লা পোড়ানো ছাইযুক্ত পানি রাখার জন্য পুকুর রয়েছে। পরিষ্কার না করায় পুকুরগুলো ভরে গেছে। পানি ধারণক্ষমতা না থাকায় সেই পানি এখন ফসলের মাঠের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছে তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। আর এ পানিতে ভরে গেছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রামভদ্রপুর, দুধিপুকুর, টুনির আঁড়া, চককবীর ও গুচ্ছ গ্রামের ফসলের মাঠ। এতে পচে গেছে বোরো বীজতলার চারা। এ পানি ব্যবহার করায়, চর্ম ও শ্বাসকষ্ট রোগের শিকার হচ্ছে গ্রামবাসী।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কয়েক দফা আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

Dinajpur

দুধিপুকুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, একমাস আগে হঠাৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তাদের ছাইযুক্ত পানি ছেড়ে দেয়। সেই পানিতে ভরে যায় তাদের ফসলের মাঠ। এ পানির নিচে ডুবে গিয়ে তাদের বোরো বীজের চারা পচে হয়ে গেছে। এমনকি এ পানি ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের হাত-পায়ে এখন চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।

শিবনগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য সাইফুর ইসলাম বাবলু বলেন, এতে অন্তত ৫০ জনের বোরো বীজতলা তলিয়ে গেছে। চারা পচে যাওয়ায় তারা কিভাবে রোপণ করবেন তা ভেবে পাচ্ছে না। এমনকি এ পানি পার্শ্ববর্তী তিলাই নদিতে ছেড়ে দেয়ায় নদীর মাছও মরে যাচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ বলেন, কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানিতে এসিড মিশ্রিত থাকে। তাই বীজতলাসহ ফসলের ক্ষতি হবে। ওই পানি এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান গ্রামবাসীর আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :