চলছে বাঁধ কাটার মহোৎসব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের আলাই নদীর সোনাইল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাটার মহোৎসব চলছে। প্রায় ১৫ দিন থেকে ইটভাটা ও বসতভিটার মাটি পরিবহনের জন্য অবৈধ ট্রাক্টরের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাঁধের অংশ কেটে নিচু করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পরিমাণে মাটি পরিবহনের জন্য বাঁধটিও ধুলায় ভরে গেছে। ফলে আশেপাশের বাড়ির লোকজন ও চলাচলে মানুষদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, আলাই নদীর বাঁধটি দিয়ে প্রায় ১৫ দিন থেকে মাটিবোঝাই ১০টিরও বেশি ট্রাক্টর চলাচল করছে। ট্রাক্টরগুলো চলাচলের জন্য বাঁধ কেটে নিচু করা হয়েছে সাত থেকে আটটি জায়গায়। এসব ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সৃষ্ট ধুলা বাঁধটির দুইপাশের বাড়িতে উড়ে যাওয়ায় ও চলাচল করার সময় মানুষকে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া বাঁধটির বেহাল দশার কারণে রাতে চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটছে। বাঁধটি কেমন আছে সেটি দেখতে বর্ষাকাল ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারো দেখা মেলে না।

jagonews24

রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, আলাই নদীর পূর্বপাশে পুলবন্দি-বাদিয়াখালী বাঁধের বোয়ালী গ্রামের আমিনুল ইসলামের বাড়ীর পূর্বপাশ থেকে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বাঁধ কেটে নিচু করা হয়েছে। কেটে ফেলা হয়েছে আমিনুল ইসলামের কাঁঠাল গাছের শেকড়। ফলে এ বাড়িটি ঝড়-তুফানে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

একই গ্রামের আশরাফ আলী বাঁধটির দুইটি স্থানে আলাই নদীর শুকনা জায়গা থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টর দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন এবং একই ইউনিয়নের তালুক বুড়াইল গ্রাম থেকে পিয়ারাপুর গ্রামের রেজাউল করিম ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহনের জন্য বাঁধ কেটে নিচু করেছেন দুই জায়গায়।

অপরদিকে এ আলাই নদীর রেলসেতুর দক্ষিণ পাশে বোয়ালী গ্রামে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি মেশিন দিয়ে বসতবাড়ির জন্য বালু তোলা হচ্ছে। ফলে ওই স্থানটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। বর্ষা মৌসুমে ওই স্থানে ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

jagonews24

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোয়ালী গ্রামের এক ব্যবসায়ী বলেন, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও বাঁধ কেটে নিচু করে মাটিবোঝাই অবৈধ ট্রাক্টরগুলো চলাচল করছে। এতে বাঁধটির অবস্থা একেবারে খারাপ হয়ে গেছে। একমাত্র বর্ষাকাল ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো লোকও আসে না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আলাই নদীর বাঁধ আমি স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিদর্শন করবো। এ নদীর বাঁধ বিলীন হয়ে গেলে বন্যার সময় আমাদেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। তাই সেখানে কি করণীয়, তা করা হবে।

রওশন আলম পাপুল/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।