কক্সবাজার পাহাড়ে হচ্ছে ইকোপার্ক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৮
কক্সবাজার পাহাড়ে হচ্ছে ইকোপার্ক

পর্যটন শহর কক্সবাজারের দরিয়ানগর। এই পর্যটন কেন্দ্রটি হচ্ছে পাহাড়, সমুদ্র আর সূর্যের অপূর্ব মিলনস্থল। একপাশে বড়ছরা খালের স্বচ্ছ পানি, পশ্চিমে সাগরের বিশাল ঢেউ, রোমাঞ্চকর সুড়ঙ্গ আর পাহাড়ের মাঝখানে দিয়ে কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী রাস্তা-এসব কারণে দরিয়ানগর প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। বর্তমানে এখানে নতুন করে পাহাড়ে হচ্ছে ইকোপার্ক।

এ দরিয়ানগরের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্বে রয়েছে পাহাড়ি বিশাল এলাকায় বন্যপ্রাণির আবাসস্থল। যেখানে অবস্থান করে নানা প্রজাতির পাখি ও বিলুপ্ত প্রায় বন্যপ্রাণি। প্রকৃতির এসব উপকরণ নিয়ে দরিয়ানগরের পাশেই ৩০ একর জায়গা জুড়ে ইকোপার্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে পার্কের জন্য ৩০ একর জমি ব্যবহারের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।

কক্সবাজার সদর ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ঝিলংজা মৌজার বিএস ২৫০০১ দাগের ৪২৫ দশমিক ৪০ একর শ্রেণি জমি ‘পাহাড়’ হিসেবে বনবিভাগের পরিবর্তে ডেপুটি কমিশনার কক্সবাজারের নামে নথিভূক্ত রয়েছে। পাহাড় শ্রেণি এ জমির ৩০ একর এলাকায় পাখির অভয়াশ্রম স্থাপনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই পার্কটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। যেহেতু পরিকল্পিতভাবে এই পাহাড়ি অঞ্চল সংরক্ষণ করা হবে, তাই এই ৩০ একর জমি সভাপতি দরিয়ানগর পাখি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পার্ক ব্যবস্থাপনা কমিটি ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে।

Eco-Park-land

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দীন বলেন, কক্সবাজারের প্রকৃতি পর্যটনের জন্য বিধাতার বিশেষ দান। এর পাহাড়ি এলাকাগুলোতে যেসব পশু পাখির বিচরণ রয়েছে তা সংরক্ষণে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। সেসব রক্ষায় সরকার পাখি ও পশুর আবাসস্থল হিসেবে অভয়াশ্রম সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে দরিয়ানগর এলাকায় ৩০ একর পাহাড়ি জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ের কিছুই পরিবর্তন হবে না। কাটা হবে না গাছ কিংবা টিলার মাটি। প্রকৃতি অক্ষুন্ন রেখেই জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে। আর ৩০ একর পাহাড়ি জমিতে যাদের বসতি রয়েছে, তাদের পুর্ণবাসন করা হবে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মেরিন ড্রাইভের পূর্বপাশে বনসহ বিশাল বিশাল পাহাড় রয়েছে। এর মাঝে দরিয়ানগরের আশপাশ এলাকা অন্যতম। যেখানে নানা ধরণের পাখি ও প্রাণির বিচরণ রয়েছে। এসব এলাকা থেকে অসাধু চক্র পশুপাখি শিকার ও বিক্রি করে। তাই ইকোপার্কের মাধ্যমে অভয়াশ্রম তৈরি করা গেলে পরিবেশের বন্ধু এসব জীব বৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নোমান হোসেন বলেন, ইকোপার্কটি সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে পশু-পাখির অভয়াশ্রমের পাশাপাশি দরিয়ানগরের আশপাশে পর্যটনের জন্য বিনোদনের নানা ব্যবস্থাও করা যাবে। এতে কক্সবাজারের পর্যটনখাতে বৈচিত্র আসবে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএ/জেআইএম