ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির স্মৃতি রক্ষার দাবি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮

আগামীকাল ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠাকুরগাঁওয়ে আগমনের খবর নিঃসন্দেহে জেলাবাসীর জন্য অনেক আনন্দের ও অনেক প্রত্যাশার। তার আগমনের খবরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ উদ্বেলিত। এরই মধ্যে এলাকার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনেক দাবি-দাওয়া পেশ করার পরিকল্পনা করেছে। সেগুলোর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ঠাকুরগাঁও-ঢাকা সরাসরি আধুনিক রেল চালু, বিমানবন্দর চালুকরণসহ আরও অনেক দাবি-দাওয়া রয়েছে।

এসব দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ভাষাসৈনিক মরহুম দবিরুল ইসলামের পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদেরও একটি প্রাণের দাবি রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম সারথি ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের দবিরুল ইসলাম। ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে তার ছিল অসামান্য ভূমিকা।

১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনের সময় দবিরুল ইসলাম জেলখানায় বন্দি ছিলেন। কিন্তু তার তেজদীপ্ত সাহস, প্রজ্ঞা, অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতা আর তীক্ষ্ণ মেধার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকেই ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনীত করেন এবং ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনিই সফলভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলন ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনকে দুর্বার আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে তার জোরালো ভূমিকার কারণে বারবার তাকে পাকিস্তান সরকারের রোষাণলে পড়তে হয়। এর ফল হিসেবে তাকে কারাভোগের সঙ্গে সঙ্গে অসহ্য নির্যাতনও ভোগ করতে হয়।

দিনাজপুর জেলখানায় বন্দি থেকেও এতটুকু দমে যাননি দবিরুল ইসলাম। আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন নিরলসভাবে। দবিরুল ইসলামের ওপর নির্যাতনের খবর শুনে বঙ্গবন্ধুসহ অন্য নেতারা তাকে দেখতে দিনাজপুরে ছুটে যান। যেটি বঙ্গবন্ধু তার লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার নির্বাচনে বিপুল ভোটে এমএলএ নির্বাচিত হন দবিরুল ইসলাম। পরে যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে গেলে আবু হোসেন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়ে তিনি দায়িত্ব পান শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের। এসময় ঠাকুরগাঁওয়ে সুগার মিল স্থাপনের জন্য জোরালো দাবি তুলে ধরেন তিনি।

বারবার কারাভোগ ও জেলখানার ভেতরে অমানুষিক নির্যাতনের কারণে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন অসামান্য প্রতিভাবান এই ছাত্রনেতা। তার স্মৃতি রক্ষার্থে ঠাকুরগাঁও টাউন ক্লাবে জাতির জনকের নির্দেশে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়া আর কিছুই নেই।

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ভাষাসৈনিক মরহুম দবিরুল ইসলামের পরিবারের সদস্য হিসেবে আজ আমাদের প্রাণের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তার স্মৃতি রক্ষার্থে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ অথবা যেকোনো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ তার নামে করবেন। এতে একদিকে যেমন তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে, অন্যদিকে তার নাম ও অবদান ঠাকুরগাঁওবাসীসহ দেশবাসীর কাছে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

লেখক : রেজওয়ান মুকুল, মরহুম দবিরুল ইসলামের ভ্রাতুষ্পুত্র

এমএএস/আরআইপি