নিজের বিয়ে নিজেই ঠেকালো আশা মনি
নিজেই নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়েছে ১৩ বছরের কিশোরী আশা মনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনন্যপায় হয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজের বাল্যবিয়ের কথা জানায় সে।
আশা মনি বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের মজনু গাজীর মেয়ে। সে দক্ষিণ রাওঘা নুর-আল-আমিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, আশা মনির বাবা মজনু গাজী বরিশালে রলিটন (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় বিয়ের দিনক্ষণও ঠিক হয়। আর এ কাজে মজনু গাজীকে সহযোগিতা করেন আশা মনির বড় দুলাভাই বাদল খান, ফুপা বাবুল মৃধা ও চাচা জসিম সর্দার। তারা বিয়ের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সকালে বরিশালে যান এবং সকল আয়োজন চূড়ান্ত করেন।
আশা মনি এ সংবাদ জানতে পেরে তার চাচাত ভাই মাহবুবুর রহমান নিপুর সহযোগিতায় গোপনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপস্থিত হন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এরপর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেনের কাছে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়ার কথা জানায়। আশা মনির অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক এ বিয়ে বন্ধের উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন।
মো. সরোয়ার হোসেন জানান, তাৎক্ষণিক তিনি চাওরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খান এবং আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাকির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের আশা মনির বাড়িতে। সেখানে তিনি আশা মনির বাবা মজনুগাজী, মা মালুচি বেগম, চাচা মস্তফা গাজী ও জুয়েল গাজীকে ডেকে বাল্য বিয়ের কুফল, প্রচলিত আইন ও শাস্তি বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেন।
এক পর্যায়ে আশা মনির বাবা-মা তাদের ভুল বুঝতে পেরে মেয়ের বিয়ের আয়োজনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এফএ/আরআইপি